টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ৫৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা, যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
শুক্রবার সকালে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে মিরাজ (৫) ও আশিক (৬) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও প্রতিটি উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, জেলার ১৫টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ সরাসরি পানিবন্দি রয়েছেন। সাতকানিয়া ও বাঁশখালী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৭৬টি ইউনিয়ন বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮ এবং বন্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন। এ পর্যন্ত বন্যাজনিত ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু এবং ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা অফিস এবং থানায় প্রবেশ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬ । ১১:৫৬ অপরাহ্ণ