প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অদম্য শিক্ষক দুখু মিয়ার পাশে জেলা প্রশাসন
দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও দমে যাননি, উল্টো পা দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে শিশুদের জীবনের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা এলাকার অদম্য শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুখু মিয়া। গণমাধ্যমে তাঁর এই অনুপ্রেরণাদায়ক লড়াইয়ের গল্প উঠে আসার পর বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তাঁরই বিশেষ নির্দেশনায় এবার অদম্য এই শিক্ষকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া সম্প্রতি ‘প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন’ নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুখু মিয়া এবং সেখানে অধ্যয়নরত শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি ও সমস্যার কথা শোনেন। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিফতাহুলসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক জানান, অদম্য শিক্ষক দুখু মিয়াকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তিনি স্বউদ্যোগে শিক্ষক ও তাঁর বিদ্যালয়ের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন। সরকারের পক্ষ থেকে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগে আবেগাপ্লুত দুখু মিয়া বলেন, আমার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় সম্পর্কে খোদ প্রধানমন্ত্রী খোঁজখবর নিয়েছেন জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। আমার জীবনের মূল স্বপ্ন হলো—এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা। সরকার ও জেলা প্রশাসনের এমন সহযোগিতা পেলে আমার এই স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হবে।
আলতাফ হোসেন দুখু মিয়ার জীবনসংগ্রামের গল্পটি অলৌকিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক। জন্ম থেকেই তাঁর দুটি হাত ছিল না। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হার মেনেছে। শৈশবে তাঁর বাবা পাতিলের ভুসোকালিতে পানি মিশিয়ে কালি বানাতেন এবং কঞ্চিকে কলম হিসেবে ব্যবহার করে কলাপাতায় পা দিয়ে তাঁকে লিখতে শেখান। সেই কষ্টার্জিত শিক্ষা আর অসীম ধৈর্যকে সম্বল করে তিনি প্রাথমিক থেকে একে একে সব ধাপ পার করে ডিগ্রি পাস করার বিস্ময়কর কৃতিত্ব অর্জন করেন।
শিক্ষা জীবন শেষে একটি চাকরির আশায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন দুখু মিয়া, কিন্তু মেলে নি কোনো সুযোগ। শেষ পর্যন্ত হতাশ না হয়ে আত্মকর্মসংস্থানের পথে হাঁটেন তিনি। বাবার দেওয়া জমি বিক্রির টাকা এবং নিজের জমানো সঞ্চয় দিয়ে ২০০৭ সালে পৈতৃক ভিটায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন’। বর্তমানে তাঁর এই প্রতিষ্ঠানে ১৪৫ জন শিশু আনন্দের সঙ্গে লেখাপড়া করছে, যা পুরো এলাকার জন্য এক আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছে।


