খুঁজুন
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

প্রধান আসামিকে আড়াল করার অভিযোগ

চিহ্নিত মাদক কারবারি পেপার সানি হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার, এরপর কি ?

ক্রাইম রিপোর্টার
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ জুন, ২০২৫, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
চিহ্নিত মাদক কারবারি পেপার সানি হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার, এরপর কি ?

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় চিহ্নিত মাদক কারবারি রাকিবুল হাসান সানি ওরফে পেপার সানি (২৯) নামের এক যুবককে গত ১০ জুন গলা কেটে হত্যা করা হয়। তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মৃত হিসেবে পাওয়া যায়। এরই মধ্যে কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। সোমবার (২৩ জুন) তাদেরকে আদালতে চালান করা হয়।

তবে এই মাদক ব্যবসায়ের বিরোধ থেকে খুন হওয়া পেপার সানির মামলার মোড় যেনো জটলার মতো ঘুরছেই। ১০ জুন সকালে পল্লবীর মিরপুর ১১, মিল্লাত ক্যাম্পের (বি-ব্লক) ৩ নম্বর লাইনে সানিকে হত্যা করা হয়। নিহত পেপার সানিকে অনেকেই ইয়াবা সানি নামেও জানতো। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে সম্প্রতি মিরপুর ১১ আলুপট্টি থেকে ইমরান, বৌ বাজার থেকে পারভেজ, এবং মিরপুরে মাদক-সন্ত্রাসের অন্যতম গটফাদার রাসেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে অনেকেই।

স্থানীয় সূত্র বলছে, রাসেল ও তার দুই ভাই তোফায়েল ওরফে কানা তোফায়েল, সানজু এরা তিন ভাই মিলে মাদক সম্রাজ্য চালায়। আর তাকে সাহায্য করে ওই এলাকার অনেকেই। তার মধ্যে ওই লাইনের রোকি অন্যতম। এমনকি রোকি পেপার সানি হত্যা মামলাতেও জড়িত।

অভিযুক্ত রাসেলের পাপের দাস্তান অনেক লম্বা। পরিচয় গোপন রেখে স্থানীয়রা জানান, “পল্লবী থানায় রাসেলের নামে মাদক চোরাচালান, কিশোরগ্যাং সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পল্লবী থানায় পুলিশ হেফাজতে মিরপুরের জনি হত্যা মামলায়ও রাসেলর নাম রয়েছে। ওই সময়ে রাসেল পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতো। ধীরে ধীরে পুলিশের ছত্রছায়ায় রাসেল মাদক কারবারি হয়ে ওঠে। সে ডুইপ প্লটের মাদক সম্রাট হেরোইন মোস্তাকের সাথে প্রতিযোগিতা করে মাদকের ব্যবসা করে।”

নিহত সানি কালশীর মোহাম্মদ সোহেলের ছেলে। তিনি স্ত্রীসহ মা-বাবার সঙ্গে ওই এলাকায় বসবাস করতেন।
ঘটনার দিন নিহতের বাবা মোহাম্মদ সোহেল অভিযোগ করে বলেন- ‘জিন্দা, টানা আকাশ, রুবেল, বোমা কাল্লু, কাসরা সোহেলসহ কিশোর গ্যাং গ্রুপের সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে। পরে ঘটনাস্থলেই মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায় ওরা।’

নিহতের বাবার দাবি, ওই কিশোর গ্যাং গ্রুপকে এলাকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদক কারবারে বাধা দেওয়ার কারণে ওরা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানায়, ‘মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সানির সঙ্গে ওই কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীদের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এই কারণে ওইদিন সকালে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটায়। নিহত সানি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবারির সাথে জড়িত। সম্ভবত কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই সে খুন হয়েছে। কারণ মিরপুরের প্রতিটি বিহারি ক্যাম্পেই মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। এসব নিয়ে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব নিত্যদিনের ঘটনা। এমনকি শহীদ জিয়া মহিলা ডিগ্রী কলেজের পাশে যে খুন হয়, ওই মার্ডারও পেপার সানি করে।’

সোমবার (২৩ জুন) আটককৃত আসামিদের বিষয়ে জানতে পল্লবী থানায় উপস্থিত হয় আমরা। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম বা ওসি তদন্ত কাউকেই থানায় পাওয়া যায়নি। থানা থেকে বলা হয়, সকলেই মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে গেছেন। উক্ত মামলার তদন্ত অফিসার এসআই হুমায়ুন’কে একাধিবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। পরে থানা থেকে আটককৃত দের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।

তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়। ভুক্তভোগী পারভেজের পরিবারের অভিযোগ, ‘মার্ডার মামলার আসামি রাসেল মিরপুরে মাদক গডফাদারদের মধ্যে অন্যতম। তার কারণেই পারভেজের এই পরিণতি, পারভেজকে ফাঁসানো হয়েছে। রাসেলের কঠিন শাস্তি হলে অন্য সবাই সতর্ক হবে।’

পরিচয় গোপন রেখে মামলা সম্পর্কে ভয়াবহ তথ্য দেন স্থানীয় কয়েকজন। তাদের ভাষ্যমতে, “মিরপুর ১১ বড়ো মসজিদের পাশে (বৌউ বাজার), বি ব্লকের ৮ নাম্বার লাইনে রাসেল থাকে। রাসেলের ২ ভাই, ডুইপ প্লটের হেরোইন মোস্তাক, মোস্তাকের প্রতিটি ছেলেই মাদক কারবারির সাথে যুক্ত, বিশেষ করে সুমন, সাইমন, মামুন সহ সবাই, ওখানকার রোকি, মিরপুর ১১ স্বর্নপট্টি সংলগ্ন এফজি ক্যাম্পের ইয়াবা সাব্বির, তার ভাগ্নে ইয়াবা আসিফ ওরফে সেকেন্ড থানা, নিলয় সহ প্রায় ২০ জন এই এলাকায় মাদকের ফ্যাক্টরি গড়ে তুলেছে। তারা প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে। অথচ পুলিশ কিছুই করে না।”

মিরপুর ১১ সি ব্লক, স্বর্নপট্টি এলাকার কয়েকজনের সাথে কথা হয়। তাদের ভাষ্যও একইরকম। তবে তাদের অভিযোগ আরও গুরুতর। স্থানীয়দের অভিযোগ, “এই এলাকায় মাদকের পাইকারি ব্যবসায়ী বৌ বাজারের রাসেল, ডুইপের মোস্তাক মিয়া ও তার ছেলেরা, স্বর্নপট্টি এলাকায় বিহারি সাব্বির, আসিফ, আসিফের বোন শারমিন। আর বাকি যে নামগুলো শুনলেন, ওরা খুচরা বিক্রি করে। তবে এদেরকে কেউ ভয়ে কিছু বলে না। কারণ ডুইপের হেরোইন মোস্তাকের ২২ টা বাড়ি- টাকার অভাব নেই।

আর আসিফ নিজেকে সেকেন্ড থানা বলে পরিচয় দেয়। পল্লবী থানা পুলিশ নাকি ওর দুলাভাই-আত্নীয়। এমনকি শারমিন নিজে সরাসরি দেহব্যবসা ও মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। এই শারমিন পল্লবী থানার পুলিশকে রুমে গোপনে সার্ভিস দিয়েই সবকিছু লিয়াজু করে। এমনকি শারমিন সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লার রক্ষিতা বলেও সবাই জানে। শারমিন বিভিন্ন এলাকায় সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে হানি ট্রাপের ফাঁদ তৈরি করে। তার অনেক ক্ষমতা। এজন্যই ভয়ে কেউ কোনো কথা বলে না।”

এই পেপার সানি হত্যা মামলার বিষয়ে নতুন করে আরেকটি অভিযোগ আসে। স্থানীয় ও কিছু ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ‘নিহত সানির মা রাসেলের থেকে ৫ লক্ষ টাকা খেয়ে মামলার মোড় অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিতে চাচ্ছে। অথচ এই রাসেল, মোস্তাক, আসিফ গং পুরো মিরপুরে মাদকের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছে। এমনকি নিহত সানির বাবা-মা পুলিশের কাছে অনেকের নামও বলেনি। এভাবেই বড় মাফিয়ারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। কারণ নিহত পেপার সানি জীবদ্দশায় ইয়াবার ব্যাবসা করতো, খুন-জখম সহ বিভিন্ন অপকর্ম করতো। পেপার সানির নামে খোঁজ নিলে বিভিন্ন থানায় মামলাও পাবেন। অথচ পেপার সানির মা এসব গোপন রেখে ছেলেকে উস্কে দিতো।’

তবে রাসেল বা কারো কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চেয়ে বারংবার ফোন করা হলেও নিহত পেপার সানির মা অথবা স্ত্রী ফোনকল রিসিভ করেন নি।

সবমিলিয়ে রাজধানী তথা মিরপুরে মাদকের রমরমা ব্যবসায়ের যেনো কোনো থামার ইঙ্গিত নেই। কয়েকজন বড় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় শতাধিক মাদক কারবারি দেদারসে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়- এই মাদকের রমরমা ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, নানাবিধ কোন্দলে খুন সহ অসংখ্য অপরাধের স্বর্গরাজ্যের অবসান ঘটিয়ে মিরপুর ১১ তথা পল্লবীতে প্রশাসন শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’—সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনকে হটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। বাংলাদেশের পর পরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে।

উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া।২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না গৃহকর্মীর মৃত্যু: স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক আশফাকের বিচার শুরু