সুমি আক্তারের অভিযোগ উদ্দেশ্যণোদিত: গণমাধ্যমে ড. ইকবালের ব্যাখ্যা
ঢাকা, ২৫ জুলাই ২০২৫:
রাইনোপ্লাস্টি সার্জারিতে ভুল চিকিৎসা, আর্থিক প্রতারণা ও নাক বিকৃতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশিষ্ট প্লাস্টিক ও কসমেটিক সার্জন ডা. ইকবাল আহমেদ। আজ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
সম্প্রতি ৩৭ বছর বয়সী সুমি আক্তার নামের এক নারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করেন, রাইনোপ্লাস্টি অপারেশনের পর তার নাক বেঁকে গেছে, শক্ত হয়ে গেছে এবং অপারেশনে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকার প্রতারণা করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে তদন্তে নামে দেশের দুটি শীর্ষ প্লাস্টিক সার্জন সংগঠন—Society of Plastic Surgeons of Bangladesh (SPSB) এবং Bangladesh Society of Aesthetic Plastic Surgeons (BSAPS)।
তদন্ত শেষে আজ উভয় সংগঠন পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। SPSB-এর বিবৃতিতে বলা হয়, “রোগীর পূর্ববর্তী, পরবর্তী এবং ফলোআপের ছবিসহ সকল ডকুমেন্টেশন ডা. ইকবালের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং নাকে কোনো বিকৃতির প্রমাণ মেলেনি।”
BSAPS-এর বিবৃতিতে বলা হয়, “রোগী লিখিত সম্মতিপত্রে সই করে অপারেশনে সম্মতি দেন এবং এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল ফলাফল প্রত্যাশিত নাকের সঙ্গে শতভাগ মিলে যাবে এমন কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয় না, যা বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা নিয়মের অংশ।”
অভিযোগের মূল বিষয় ১১ লাখ টাকার লেনদেন প্রসঙ্গে ডা. ইকবাল জানান, “মূল সার্জারির খরচ ছিল মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। রশিদ ও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজসহ সমস্ত লেনদেনের প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সুমি আক্তার মাস্ক পরে সংবাদমাধ্যমে এসে বিভ্রান্তি ছড়াতে চান। তার নাকে কোনো বিকৃতি নেই। একবার যদি তিনি মাস্ক খুলে আসেন, সত্যটা সবার সামনে পরিষ্কার হবে।”
তিনি দাবি করেন, সার্জারির প্রায় ৭ মাস পর হঠাৎ এমন অভিযোগ তুলে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার ষড়যন্ত্র চলছে। “টাকা ফেরতের দাবি মেনে না নেওয়ায় আমাকে হুমকি দেওয়া হয়, এমনকি দ্বিগুণ টাকা দাবি করা হয়”—বলেন ডা. ইকবাল।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. ইকবালের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্লাস্টিক সার্জারির শীর্ষস্থানীয় তিনজন বিশেষজ্ঞ—প্রফেসর ডা. ইমরান চৌধুরী (আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ), প্রফেসর ডা. সাত্তার মো. সুমন (মনোয়ারা সিকদার মেডিকেল কলেজ) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. চৌধুরী রাশেদুল মুগনি (বিআইএইচএস)
SPSB ও BSAPS আরও উল্লেখ করেছে, রোগীর দাবিকৃত সিলিকন ইমপ্ল্যান্টের কোনো ব্যবহার হয়নি, কারণ সেটি রোগীর চাহিদাতেই ছিল না। এক্সরে বা সিটি স্ক্যান করলেই বিষয়টি প্রমাণিত হবে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, “রোগীর পক্ষ থেকে একজন সিনিয়র সার্জনের (প্রফেসর ডা. মো. শহিদুল বারী) নামে মিথ্যাচার করা হয়েছে। সরাসরি কথা বললে জানা যায় তিনি কখনোই ‘ভুল অপারেশন’ বলে মন্তব্য করেননি।”
ডা. ইকবাল আহমেদ আদালতের কাছে মামলাটি চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটি বা বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, সার্জারি রেজিস্ট্রেশন এবং কর্ম-অভিজ্ঞতা যাচাইয়ের জন্য গণমাধ্যমকে আহ্বান জানিয়েছেন।
পেশাজীবীদের বার্তা:
SPSB ও BSAPS স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, চিকিৎসকদের সম্মান রক্ষা করা ও পেশার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা তাদের নীতিগত দায়িত্ব। তারা বলেন, “একতরফা ও অসত্য প্রচারণা চিকিৎসা পেশাকে কলুষিত করে। তাই আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”



আপনার মতামত লিখুন