খুঁজুন
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৭ ভাদ্র, ১৪৩৩

বিএনপির শক্ত প্রতিপক্ষ হবে জামায়াত-এনসিপি ও ‘অন্যান্য’?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
বিএনপির শক্ত প্রতিপক্ষ হবে জামায়াত-এনসিপি ও ‘অন্যান্য’?

জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশের আগে তার কপি মাত্র তিনটি দলকে দেওয়া হয়। অন্য দলগুলোর বেশিরভাগের প্রতিনিধি প্রধান উপদেষ্টার মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও তারা বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। সিপিবিসহ কয়েকটি বাম দল ওই অনুষ্ঠান বর্জন করেছে। তারা বলছে, এটা বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে বাধা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আসলে এখন বহুদল বা দ্বিদলীয় গণতন্ত্রের পথে এগোনোর কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর দেশের এখন সবচেয়ে বড় দল বিএনপি। কিন্তু পরের দলগুলো বিএনপির কাছাকাছি তো দূরের কথা, বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতিযোগিতাই গড়ে তুলতে সক্ষম নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রবণতা হলো, জামায়াত ও এনসিপিকে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।

ঘোষণাপত্র প্রকাশের অনুষ্ঠানে ৫০টিরও বেশি দল ও সংগঠন অংশ নেয়। লোক সমাগমের উদ্দেশ্যে ঢাকার বাইরে থেকে লোক আনার জন্য ট্রেন ভাড়া করে দেয় সরকার।

গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান ডয়চে ভেলেকে বলেন, আমরা ঘোষণাপত্র প্রকাশ অনুষ্ঠানে গিয়েছি। কিন্তু বিএনপি, জাময়াত ও জাতীয় নগরিক পার্টি (এনসিপি) – এই তিনটি দলকে আগে ঘোষণাপত্র দেওয়া হয়েছে। আর কোনো দলকে দেওয়া হয়নি। আমাদের খসড়াও দেওয়া হয়নি। বলা হয়েছিল, ঘোষণার জন্য চূড়ান্ত করার পর দেওয়া হবে, তা-ও দেওয়া হয়নি। যা ঘোষণা করা হলো তা আগে আমরা কিছুই জানতাম না।

তার কথা, এখানে আসলে এখন কোনো গণতন্ত্রের চর্চা হচ্ছে না। একটি দল যেরকম চায় সেরকমই হয়। আর বিএনপিসহ দুই-একটি দলের সাথে কথা বলা হয়। আসলে এখানে এখন আর দ্বিদলীয়, বহুদলীয় গণতন্ত্র বলে কিছু নাই। তারা যা চায়, তাই হয়। তাদের মর্জিমাফিক সবকিছু হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া আরেক দল ইসলামী আন্দোলন, বাংলদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউর রহমান গাজী বলেন, ৫ আগস্টকে আমরা সম্মান জানিয়ে ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছি। কিন্তু ওই ঘোষণায় কী ছিল তা আমাদের জানানো হয়নি। মাত্র তিনটি দলকে জানানো হয়েছে। এটা বৈষম্য এবং স্বেচ্ছাচারিতা। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই ধরনের পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তাই আমরা আশা করবো, জুলাই সনদ ঘোষণার আগে সরকার সব রজনৈতিক দলের মতামত নেবে এবং সবদলের সঙ্গে আলোচনা করে সনদ চূড়ান্ত করবে।

যারা বর্জন করেছে:

জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠান মূলধারার চারটি বাম দল দল-বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ, মার্কসবাদী) ও শরীফ নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) বর্জন করেছে।

তারা বলছে, আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা অনুষ্ঠানে যাননি৷ কারণ, জানতে চাইলে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আমরা সাক্ষী গোপাল হতে চাইনি বলেই ওই অনুষ্ঠানে যাইনি, বর্জন করেছি। কারণ জুলাই আন্দোলন যারা করেছেন, তাদের সবার সঙ্গে আলোচনা করেই এই ঘোষণাপত্র তৈরি করা ছিল বাঞ্ছনীয়। কিন্তু তা করা হয়নি। আমাদের কোনো খসড়াও পাঠানো হয়নি। আমাদেরকে শুধু সম্মতি নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

তারা একটা পাঠের আসর করলেন। তার জন্য ট্রেন ভাড়া করে বাইরে থেকে লোকজন আনলেন। আরো অনেক কর্মকাণ্ড করলেন, যা দেশের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। তারা কেন এটা করলেন, উদ্দেশ্য কী আমরা তা বুঝতে পারছি না। সরকার এক বছরে অনেক বিতর্কিত কাজ করেছে। ফলে, সরকার ডাকলেই এখন আমরা যাবো না। আমাদের বুঝে-শুনে যেতে হবে, বলেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশেষ দল ও বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতি ওনাদের নজর আছে। সেই কারণে তারা (সরকার) বিশেষ দল বা গোষ্ঠীকে ডাকেন এবং তাদের সাথে পরামর্শ করেন। ওনাদের বিশেষ কোনো চিন্তা প্রতিষ্ঠিত করাই ওনাদের বড় কাজ বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে। ফলে, বহুদলীয় গণতন্ত্র তো দূরে থাক, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে একটি ঐক্যের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, তার মধ্যে বিভক্তির বীজ রোপণের চেষ্টা আমরা দেখতে পাচ্ছি।

তবে এ প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আসলে সরকার কোন দলকে আগে ঘোষণাপত্র পাঠাবে, কোন দলকে পাঠাবে না সেটা তাদের ব্যাপার। সেটা নিয়ে আমাদের কী বলার আছে। তবে সবার সঙ্গে আলোচনা করতে পারল ভালো হতো। হয়তো সময় বাঁচানোর জন্য এটা করা হয়েছে। আমরাও তো জুলাই ঘোষণার কিছু বিষয়ের সাথে একমত হতে পারছি না। তারপরও মেনে নিয়েছি। এখন নির্বাচন এসে গেছে। সবার সেদিকে মনোযোগ দেয়া ভালো।”

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন মনে করেন, শুধু সব দল নয়, জুলাই আন্দোনে অংশ নেওয়া সব পক্ষের মতামত নেওয়া দরকার ছিল। শুধু আমাদের তিনটি দলের মতামত যথেষ্ট নয়। তবে তিনি তাদের প্রতি সরকারে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

বহুদলীয় গণতন্ত্র, না এক দলের প্রাধান্য?

বাংলাদেশে এখন বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিষয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৫৫টি। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত যা সিদ্ধান্ত তাতে আগামী নির্বাচনে তাদের অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। অন্যদিকে নতুন নিবন্ধন পাওয়ার আশায় আছে এনসিপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন সময়ে বৈঠকে যাদের ডাকেন, তাদের মধ্যে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল আমন্ত্রণ পায় না। আবার অনিবন্ধিত দল হলেও এনসিপি অন্তর্বর্তী সরকারের আছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ। তাই এখন নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সম্ভাবনা কতটুকু? আওয়ামী লীগ না থাকায় ভোটের হিসাবে দ্বিদলীয় গণতন্ত্রেরই বা কতটুকু বিকশিত হওয়ার সুযোগ আছে?

বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এই সরকার কোলে-পিঠে করে এনসিপিকে বড় করার চেষ্টা করছে। আরেক দিকে ধর্মবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে তাদের আন-অফিসিয়াল বন্ডেজ বা অ্যালাইনমেন্ট দেখা যায়। আর বিএনপি যেহেতু বড় দল, প্রধান বিরোধী দল তাই কিছুটা চাপে পড়ে তাদের কিছুটা গুরুত্ব দেয়। এটা কোনো গণতান্ত্রিক আচরণ নয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্য এটা সহায়ক নয়।

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে তারা হয়তো চাইছে দ্বিদলীয় মডেলে বিএনপির বিপরীতে এনসিপিকে দাঁড় করাতে। কিন্তু সেই সক্ষমতা তাদের নাই। তাদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব আছে, বলেন তিনি।

ভোটের হিসাব কী বলছে?

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। নোয়াখালী-১ আসনের বৈধ প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম মারা যাওয়ায় ওই আসনের ভোট বাতিল করে কমিশন। সেটাই ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সর্বশেষ ভোট।

সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ নিবন্ধিত ৩৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ভোটার ছিলেন আট কোটি ৮৭ হাজার ৩ জন। ভোট পড়ে রেকর্ড ৮৭.১৩ শতাংশ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি, বিএনপি ৩০টি, জাতীয় পার্টি ২৭টি, জাসদ ৩টি, জামায়াতে ইসলামী ২টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৪টি আসনে জয়ী হন।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ৪৮.০৪ শতাংশ, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ৩২.৫ শতাংশ, এইচএম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক ৭.০৪ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লায় ৪.৭ শতাংশ, স্বতন্ত্র ২.৯৪ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ০.৯৪ শতাংশ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ০.০৬ শতাংশ ভোট পায়। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই বড় দল মিলেই ৮০.৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এরপরে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের অবস্থান। কিন্তু তাদের ভোটের হার বড় দুই দলের ধারে০কাছেও নেই।

তবে ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর সাম্প্রতিক কিছু জরিপে ভোটের হিসাবে নতুন ধরনের চিত্র উঠে আসছে। সম্প্রতি সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর তরুণদের মধ্যে চালানো এক জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, ৩৮.৭৬ শতাংশের মত অনুযায়ী, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি শীর্ষে থাকবে।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী৷ দলটির পক্ষে মত দিয়েছেন ২১.৪৫ শতাংশ । এছাড়া নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাবে ১৫.৮৪ শতাংশ ভোট।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারলে ১৫ শতাংশের কিছু বেশি ভোট পেতে পারে জানিয়েছেন জরিপে অংশ নেয়া ব্যক্তিরা। সানেমের জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৪.৫৯ শতাংশ ভোট পেতে পারে। জাতীয় পার্টি পাবে ৩.৭৭ শতাংশ এবং অন্যান্য ছোট দলের প্রাপ্ত ভোট হবে মাত্র ০.৫৭ শতাংশ।

বিএনপি নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আমরা তো এখানে বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশ চাই। নানা মত আর পথের বিকাশ ঘটবে এখানে। এখানে দ্বিদলীয় ব্যবস্থা গড়ে উছেছিল। কিন্তু যারা তাদের ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, তাদের আবার ফিরে আসার মধ্য দিয়ে দ্বিদলীয় গণতন্ত্র আমরা চাই না। সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র বিকশিত হবে।

“তবে সরকারের ভিতরে একটা প্রবণতা আছে কোনো কোনো দলকে টেনে নিয়ে আসার, তাদের বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী করার। কিন্তু সেটা জনগণ গ্রহণ করবে না। প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়রিতে নির্বাচনের স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। এখন বিষয়গুলো পরিষ্কার হবে জনগণ কী চায়।”

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, আবার যদি এক দলীয় ব্যবস্থার উদ্ভব হয়, একক কোনো দলের আধিপত্য হয়, তা হবে আমাদের জন্য দু:খজনক। আমরা ফের ফ্যাসিবাদ চাই না।

তার কথা, যদি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার হয়, তাহলে আসলে সব দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের সহায়তায় আমরা বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হতে চাইছি। বা সরকার চেষ্টা করছে এটা বিএনপির অপপ্রচার। আমরা রাজনীতি করেই আমাদের অবস্থান তৈরি করতে চাই।

বিশ্লেষকরা যা মনে করেন:

বিশ্লেষকরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপি এখন একমাত্র বড় দল। দেশে দ্বিদলীয় ব্যবস্থা অনুপস্থিত। তবে আওয়ামী লীগের ভোটরারা তো আর চলে যাননি। ওই ভোটাররা কোন দিকে টার্ন করে, তারা সংঘবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কিনা তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ততই বিষয়গুলো। পরিষ্কার হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও নির্বাচন বিশ্লেষক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, এটা সত্য যে, আওয়ামী লীগ দৃশ্যপটে না থাকায় বাংলদেশে এখন টু পার্টি সিস্টেম অনুপস্থিত। তবে আওয়ামী লীগের ভোটাররা তো আছেন। ফলে আমার মনে হয় আগামী নির্বাচন দ্বিদলীয় না হলেও দুই ধারার হতে পারে। একদিকে থাকবে তুলনামুলকভাবে একটু লিবারেল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, যার নেতৃত্বে থাকতে পারে বিএনপি, আরেক দিকে থাকবে রক্ষণশীল ও ইমলামী ধর্মীয় ধারা। সেখানে থাকবে জামায়াত ও এনসিপিসহ ইসলামী ধারার দল।

“আর বামপন্থি যে দলগুলো আছে, ভোটের বিবেচনায় তারা তেমন বড় না। তবে তাদেরও একটা অবস্থান থাকবে,” বলেন তিনি।

তার কথা, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত এই দুই ধারা স্পষ্ট হবে। নির্বাচনের ইশতেহারেই দুই ধারা চিহ্নিত করা যাবে। আর রাজনীতির পরিসর যদি উন্মুক্ত থাকে, কোনো দল যদি বাধার মুখে না পড়ে, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সংহত হয়।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, বাংলাদেশে এখনো মানুষ নির্বাচন বলতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভোট মনে করে। এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম তো নিষিদ্ধ। তারপরও মানুষের কাছে জিজ্ঞেস করেন- তারা এই কথাই বলবে। ফলে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে দ্বিদলীয় ব্যবস্থার কোনো পরিবেশ বা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বিএনপির কাছাকাছি আসার মতো কোনো দল নাই।

তার কথা, আমি এখন বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কোনো রাজনৈতিক দলের উত্থানের সম্ভাবনা দেখছি না। এনসিপির একটা সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সেটা এরইমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। নেতাদের বিতর্কিত কাজ এবং একই সঙ্গে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে সেটা হয়েছে। মানুষ কিংস পার্টি চায় না।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা সংস্করণের হয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন হারুন উর রশীদ স্বপন। এই প্রতিবেদনের সব ধরনের দায়ভার ডয়চে ভেলের।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’—সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনকে হটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। বাংলাদেশের পর পরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে।

উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া।২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না গৃহকর্মীর মৃত্যু: স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক আশফাকের বিচার শুরু