খুঁজুন
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

পুলিশি হামলা ও মিডিয়া ট্রায়ালের ৫ বছর

বিএনপি নেতা আমিনুল হক ও ছাত্রদল নেতা কাওছার মল্লিকসহ আহত হয় অর্ধশত

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
বিএনপি নেতা আমিনুল হক ও ছাত্রদল নেতা কাওছার মল্লিকসহ আহত হয় অর্ধশত

২০২১ সালের ১৭ আগস্ট, দিনটি ছিলো মঙ্গলবার। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিতে গেলে কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায় পুলিশ। যেখানে পুলিশের গুলিতে বিএনপি নেতা আমিনুল হক (বর্তমান আহ্বায়ক- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি), ছাত্রদল নেতা কাওছার মল্লিক সহ গুরুতর আহত হয় প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। সেদিনের ঘটনার বাস্তবতা ও মিডিয়া ট্রায়াল হয়তো অনেকেরই জানার কথা। অথচ বর্তমান রাজনীতির সমীকরণে খোলস পাল্টে সুশীলদের বাণী যেনো সরাসরি দ্বিচারিতা।

মূলত ২০২১ সালের ২ আগস্ট বিএনপি’র মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ঢাকা দক্ষিণে আবদুস সালামকে আহ্বায়ক এবং রফিকুল আলম মজনুকে সদস্য সচিব করা হয়।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তরে আমান উল্লাহ আমানকে আহ্বায়ক এবং আমিনুল হককে সদস্য সচিব করা হয়। দলের রীতি অনুযায়ী নতুন কমিটির নেতারা সেদিন তাদের অনুসারীদের নিয়ে শহীদ জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যান রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে। পরের ঘটনা কারোরই অজানা নয়।

মাজারে ফুল দিয়ে দোয়ার উদ্দেশ্যে এদিন সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা শান্তভাবে প্রবেশ করেন চন্দ্রিমা উদ্যানে। তবে পুলিশ তাদের সেখানে যেতে বাধা দেয়। ডিএমপি থেকে পূর্ব অনুমতি থাকায় বিএনপি শ্রদ্ধা জানাতে অনড়ভাবে এগিয়ে যায়। ঠিক তখনই তাদের ছত্রভঙ্গ করতে আক্রমণ শুরু করে পুলিশ। দফায় দফায় টিয়ার শেল ও গুলি করে নাস্তানাবুদ করে ফেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের। অথচ সেদিন সংঘর্ষের জন্য বিএনপিকে দায়ী করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অধিকাংশ মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার হয়- “জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ”। অথচ সেদিন কোনো মিডিয়ায় লেখা হয়নি যে, অনুমতি থাকার পরও বিএনপিকে যেতে দেয়া হয়নি। কেউ বলেনি যে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বিএনপির উপর হামলা করা হয় এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা প্রতিহত করতে ঘুরে দাঁড়ায়। সম্ভবত এটাকেই বলা হয় মিডিয়া ট্রায়াল।

পুলিশের গুলিতে সাদা পাঞ্জাবি আপাদমস্তক রক্তে লাল হয়ে চাপা কষ্ট নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিএনপি নেতা আমিনুল হক। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জনপ্রিয় সাবেক অধিনায়ক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তৎকালীন সদস্য সচিব আমিনুল হক (বর্তমান আহ্বায়ক- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি) সেদিন গণমাধ্যমে বলেছিলেন, “আমোদের কোনো নেতাকর্মীকে জিয়ার কবরের আশপাশে অবস্থান করতে দিচ্ছিল না পুলিশ। হামলার এক পর্যায়ে পুলিশ আমাদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলি করে। আমরা অনুমতি নিয়েই এখানে এসেছি। অথচ পুলিশের গুলিতে আমি আহত হয়েছি। আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে।”

এদিন প্রায় সকল মিডিয়ায় দেখা যায়- ঘটনার সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তৎকালীন আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান উত্তেজিত নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করছেন। এসময় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

সে-দিনের দুঃসহ স্মৃতির বর্ণনা দেন বর্তমান রূপনগর থানা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাওছার মল্লিক। তিনি বলেন, “ওইদিন আমরা আমিনুল ভায়ের নেতৃত্বে আমাদের প্রিয় নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে যায়। মূলত মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলাম। পুলিশের অনুমতি থাকলেও অজানা কারণে তারা আমাদের উপর যেভাবে হামলা করেছিলো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী বিশেষ করে আমিনুল হক ভাই সেদিন পুলিশের গুলিতে মারাত্মক জখম হন। আমি সহ আমরা গুলিবিদ্ধ অবস্থায়, কেউবা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে যায় চিকিৎসা নিতে। দুঃখের বিষয়- সেদিন আমাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতেও ভয় পাচ্ছিল ডাক্তার, নার্স। এমনকি গুরুতর আহত হয়েও আমরা হাসপাতালে বেশিক্ষণ অবস্থান করতে পারিনি। যতদ্রুত সম্ভব প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল প্রস্থান করতে হয় আমাদের।”

পুলিশের গুলিতে রক্তে লাল হওয়া আমিনুল হককে পুরো বাংলাদেশ চিনে। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক, বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জনাব আমিনুল হক বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক। যার নেতৃত্বে মহানগর উত্তর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রতিটি ইউনিট দৃঢ়চিত্তে এগিয়ে চলছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান ও ওইদিন আহত হওয়া মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতাদের চিনে না এমন মানুষ নেই বললেই চলে। সাবেক বাঙলা কলেজ ছাত্রদল নেতা ও রূপনগর থানা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাওছার মল্লিক নেতৃত্বে অটুট। অর্থাৎ বিএনপির ওপর এতো সব হামলা, মামলা করেও তাদেরকে দমানো যায়নি। তবে পুলিশের আগ্রাসী ভূমিকা ও মিডিয়ার অদূরদর্শী ভূমিকা, সেদিনের ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি ভুলতে পারে না বিএনপি ও তাদের নেতাকর্মী। তাদের প্রত্যাশা- দেশনায়ক তারেক রহমানের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। ত্যাগী নেতাকর্মী তাদের যথাযথ মূল্যায়ন পাবে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’—সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনকে হটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। বাংলাদেশের পর পরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে।

উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া।২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না গৃহকর্মীর মৃত্যু: স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক আশফাকের বিচার শুরু