খুঁজুন
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৭ ভাদ্র, ১৪৩৩

স্টাফদের নিকট সৎ-যোগ্য তিনি

বিআরটিসির ডিজিএম বাবু’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের আভাস

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
বিআরটিসির ডিজিএম বাবু’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের আভাস

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন বা বিআরটিসি একটি নাম, একটি ব্রান্ড। মূলত বিআরটিসি সরকারের একটি বৃহৎ সেবামূলক খাত। এই সেবা খাতকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করা হয়েছে বিভিন্ন বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে। যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিপো পাবনা বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আর এই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিপোটির সুদক্ষ ম্যানেজার বিআরটিসির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রকৌশলী ডিজিএম জনাব মনিরুজ্জামান বাবু।

তবে দুঃখের বিষয় বিআরটিসির সৎ, দক্ষ ও যোগ্য অফিসার, পাবনা ডিপোর কর্নধার ডিজিএম, পিএন্ডএস, প্রকৌশলী জনাব মনিরুজ্জামান বাবু’কে নিয়ে একটি কুচক্রী মহল লিপ্ত হয়েছে গভীর ষড়যন্ত্রে। এমনকি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসত্য ও বানোয়াট তথ্যের সংমিশ্রণে নামমাত্র সংবাদও প্রকাশ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জনাব মনিরুজ্জামান বাবুর সুনাম ও সম্মান নষ্ট করতে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেই ষড়যন্ত্র তিব্র আকার রূপ নিয়েছে। এমনকি মনিরুজ্জামান বাবুর আওয়ামীলীগের সাথে সখ্যতা ছিল বলেও কুৎসা রটনা করা হচ্ছে। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে এমন কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি।

১৯৬১ সালে এক সরকারি অধ্যাদেশ জারীর মাধ্যমে ৪ ফেব্রুয়ারি বিআরটিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তৎকালীন ইপিআরটিসি বাস ডিপোতে প্রথম দোতলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে যা বর্তমানে বিআরটিসি।

কালের ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা ডিপো। ডিপোটির বর্তমান সুদক্ষ ইউনিট প্রধান ডিজিএম, পিএন্ডএস, প্রকৌশলী জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান বাবুর সুদক্ষ পরিচালনায় নতুনভাবে এগিয়ে চলেছে পাবনা ডিপোটি। সেখানে ২.০৫ একর যায়গা জুড়ে রয়েছে বিশাল একটি মাঠ। যেখানে প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন সহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অবশ্য এই উন্নয়নের ধারা খুব বেশি দিনের নয়। কারণ কিছুদিন পূর্বেও বিআরটিসি মানেই তলাবিহীন ঝুড়ি, অপুষ্টিতে ভোগা, রুগ্ন-সুগ্ন, জরাজীর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান ছিলো। যার চেহারা পাল্টে দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও মনিরুজ্জামান বাবুর সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

চেয়ারম্যানের অভিভাবক সুলভ নির্দেশনায় সুদক্ষ ইউনিট প্রধান প্রকৌশলী জনাব মনিরুজ্জামান কাজ করে চলেছেন পরিচ্ছন্ন ধারায়। যার প্রমাণ বর্তমানের অত্যাধুনিক পাবনা বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সেইসাথে প্রতিমাসের শুরুতেই বেতন-ভাতা, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, বিশেষ প্রয়োজনে কল্যান তহবিল থেকে সাহায্য এক অনন্য নজির স্থাপিত হয়েছে।

একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আধুনিক ডিপোতে পরিণত হতে সবই রয়েছে সেখানে। প্রশাসনিক ভবন, আধুনিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ডিজিটাল ক্লাসরুম, ওয়ার্কিং শেড, ইয়ার্ড, কারিগরদের সেইফটি বক্স, পোশাক, সহ কোনো কমতি নেই ডিপোতে। তাছাড়া সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর মাধ্যমে দারুণ এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে সেখানে।

পাবনার গুরুত্বপূর্ণ এই ডিপোটিতে সুদীর্ঘ কারিগরি ওয়ার্কিং শেড নির্মাণ করে তৈরি হয়েছে সুন্দর এক কর্মপরিবেশ। বৃষ্টি হলেও এখন কারিগররা একসাথে অন্তত ১৫ থেকে ২০ টির অধিক গাড়ির মেরামত কাজ করতে পারেন।

২০০৫ সালে ডিপোতে যুক্ত হয় অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ৪২টি বাস নিয়মিতভাবে যাত্রী সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সেইসাথে ৪ টি প্রশিক্ষণ কার, ১টি প্রশিক্ষণ পিকাপ, ১টি প্রশিক্ষণ ট্রাকের মাধ্যমে নিয়মিত চলছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ডিজিএম, পিএন্ডএস, প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান বাবু পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। তাই কারিগর, চালকদের দক্ষতা অর্জনে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার প্রদানের রেওয়াজও বিদ্যমান রেখেছেন তিনি।

এখন প্রশ্ন- এতোকিছু করার পরও কেনো তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলমান ? আর এই প্রশ্নের উত্তর দেন স্বয়ং ডিপোটির স্টাফরাই। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে অনেকে বলেন, ‘বাবু স্যার শুরু থেকেই আমাদের জন্য অনেক করেছেন। এই ডিপোর চেহারা উনি পাল্টে দিয়েছেন। শুধু এখানেই নয়, বাবু স্যার যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই তিনি উন্নয়নে আমুল পরিবর্তন এনেছেন। অথচ কিছু অসাধু লোক তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। এটা সত্যিই দুঃখজনক। স্যার কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নয়। সরকারের আমলা হিসেবে সবার সাথে সুসম্পর্ক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে তাকে আওয়ামিলীগ ট্যাগ দিবে, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।’

ইতোপূর্বেকার ডিপোতে অপবাদ ও আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাই আমরা। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ সুদক্ষ ডিজিএম, পিএন্ডএস, প্রকৌশলী জনাব মোঃ মনিরুজ্জামান বাবু বেশ সহজভাবেই উত্তর দেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। সরকারের আদেশ মোতাবেক জনগণকে সেবা দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। সেক্ষেত্রে কোন সরকার ক্ষমতায় আসলো কিংবা চলে গেলো তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। দায়িত্বের সুবাদে এদেশের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কর্মময় সুসম্পর্ক রক্ষায় আমরা বাধ্য। আর সেটাকে কেউ যদি দলীয় পরিচয় প্রদানের অপচেষ্টা করে, তাহলে সত্যিই বিষয়টি দুঃখের।”

অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করে জনাব মনিরুজ্জামান বাবু বলেন, “এইতো কিছুদিন আগেও দেশের প্রতিটি অফিসে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি টানানো বাধ্যতামূলক ছিলো। অথচ এখন কোনো অফিসে সে-সব ছবি নেই। তাহলে কি আমরা সবাইকে ওই ছবি দিয়ে বিচার করতে পারি ? সত্যি কথা বলতে- আমার পরিশ্রম ও উন্নতি দেখে হয়তো অনেকেরই হিংসা হচ্ছে। তবে আমি কারো অপতৎপরতায় দৃষ্টিপাত না করে বিআরটিসির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছি। কোনো ষড়যন্ত্রে আমি বিন্দুমাত্র বিচলিত নই। কারণ আমি আমার কর্ম জীবনে কোনো ধরনের অনৈতিক কাজের পক্ষে কখনোই ছিলাম না এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমি জড়িত নই। তাই কুচক্রী মহল যা করছে করুক। আমার কর্মই আমার পরিচয়।”

কর্মজীবনের শুরুতে বিআরটিসি স্টাফদের নিদারুণ কষ্টের কথা বলতে ভুলে যান নি মনিরুজ্জামান। হয়তো সেই দৃশ্যই তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় একজন মানবিক দায়িত্বশীলের কথা। প্রতিটি ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর সুখ, দুঃখ, সহযোগিতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন জনাব মনিরুজ্জামান বাবু।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’—সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনকে হটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। বাংলাদেশের পর পরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে।

উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া।২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না গৃহকর্মীর মৃত্যু: স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক আশফাকের বিচার শুরু