মামলা তুলে নিতে পুলিশ কর্তৃৃক মেরে ফেলার হুমকি, থানায় জিডি
স্ত্রীকে নির্যাতন ও যৌতুক বিরোধী আইনের ৩ ধারায় দায়ের করা মামলায় জামিনে বেরিয়ে এসে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ এসেছে শাহজাহানপুর থানার এএসআই মোঃ আমির খসরু তালুকদারের বিরুদ্ধে। বাধ্য হয়ে জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ স্বামীর বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় জিডি করেছেন ভুক্তভোগী স্ত্রী মোছাঃ মর্জিনা। জিডি নাম্বার- ১৬৪৬।
ভুক্তভোগী মর্জিনা বর্তমানে রাজধানীর ডেমরা থানাধীন, ১২৮ নূরানী মসজিদ রোডে তার বাবা-মায়ের সাথে বসবাস করছেন।
অভিযুক্ত (স্বামী) পুলিশের এএসআই মোঃ আমির খসরু তালুকদার ( বিপি- ৮০০০০৯৫৯৮৮), পিতা মনাজির গণি তালুকদার, ২৬৩/৭, নিউ টাউন, সাইনবোর্ড, ওয়ার্ড নং ৬৬, ডেমরা এলাকায় বসবাস করছেন বলে জানা যায়।
২৬ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখে জিডি সূত্রে জানা যায়, ‘বিগত ২৯.০৭.২০২৫ ইং তারিখে বিবাদী শাহজাহানপুর থানার পুলিশের এএসআই আমির খসরুর (বিপি- ৮০০০০৯৫৯৮৮) বিরুদ্ধে মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক বিরোধী আইনে ৩ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন তারই স্ত্রী মোছাঃ মর্জিনা। যার নং- ২৯৪/২০২৫ (ডেমরা)। পরবর্তী বিবাদী গত ০৩.০৮.২০২৫ ইং তারিখে আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে ভুক্তভোগী মর্জিনা ও তার পরিবারকে বিভিন্ন লোক মারফত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখে আনুমানিক রাত ৮.২০ ঘটিকায় বিবাদী সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ জন একটি মোটরসাইকেল নিয়ে মর্জিনার বাবার মুদি দোকানের সামনে এসে মর্জিনাসহ তার বাবাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে।
এমনকি বিবাদী বলে যে, যদি মামলা তুলে না নেয়, তাহলে মর্জিনাকে প্রাণে মেরে ফেলবে এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যার যেকোনো মামলায় ফাঁসিয়ে দিবে।’
ভুক্তভোগী মর্জিনা বলেন, “আমির খসরু তালুকদার আমার স্বামী। সে শাহজাহানপুর থানার পুলিশের এএসআই। যৌতুক সহ বিভিন্ন সময়ে তার নির্যাতনে আমি অতিষ্ঠ হয়ে মামলা করি। ইতোমধ্যে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, যার কারণে সে চরম ক্ষিপ্ত। সে গোপনে মামলা থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে আমাকে এবং আমার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে মামলা উঠিয়ে নিতে। এমনকি আমি মামলা তুলে না নিলে আমি এবং আমার পরিবারের সবাইকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। এমতাবস্থায় বিবাদী কুখ্যাত পুলিশ আমির খসরুর জন্য আমি বর্তমানে পরিবার সহ জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিষয়টি আমার নিকটাত্মীয়দের সাথে আলাপ-আলোচনা করে সাধারণ ডায়েরি করতে বিলম্ব হলো। আমি চাই, তার মতো সন্ত্রাসী, মাফিয়ার যেনো জামিন না হয় এবং দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হয়।”

পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী মর্জিনা বলেন, “দেশের সব পুলিশ খারাপ না। আমার স্বামী আমির খসরু আমাকে অনেকবার বলেছে- তুই কোন থানায় যাবি যা, কোন থানা তোর মামলা নেয়, অভিযোগ নেয়, আমি দেখবো। দুঃখের বিষয় ডেমরা থানার ওসি স্যার ছাড়া আমার জিডি নিচ্ছিলো না পুলিশ। গতকাল ডিউটি অফিসার সাইদুল হকের কারণেই আমার জিডি নেয়নি পুলিশ। আমি অসুস্থ মানুষ, আমার এই ছোট্ট বাচ্চাকে নিয়ে আজ আবারও আসতে হলো। তবে আমি ডেমরা থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুর রহমান স্যারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা সাংবাদিকদের কাছে আমার দাবি, আমার সাথে ঘটে যাওয়া সকল অন্যায়, অবিচার আপনারা তুলে ধরুন। আমির খসরুর যাতে কঠিন শাস্তি হয়, আমি এটাই প্রত্যাশা রাখি।”
এবিষয়ে ডেমরা থানা জানায়, ভুক্তভোগী মর্জিনা একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বলে রাখা ভালো, বিয়ের আশ্বাসে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মেয়ের সাথে প্রতারণা, অবৈধ সম্পর্ক, পিস্তল ঠেকিয়ে বা জোরপূর্বক ধর্ষণ, মেবাইলে ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইল, জোরপূর্বক গর্ভপাত, কৌশলে নগদ টাকা, স্বর্নালঙ্কার লুট, মাদক সেবন ও বিক্রি, পুলিশের পোশাকে নিরীহ মানুষদের জিম্মি করে টাকা লুট, একাধিক পাসপোর্ট, একাধিক বিয়ে, গুম-খুন সহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ আসে এএসআই আমির খসরু তালুকদারের বিরুদ্ধে। যিনি ইতোমধ্যে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মর্জিনাকে অমানুষিক নির্যাতন করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযুক্ত পুলিশের এএসআই আমির খসরুকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। প্রমাণ সহ সংবাদ প্রকাশ এবং ভুক্তভোগী মর্জিনার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পরবর্তী অভিযুক্ত এএসআই আমির খসরু তালুকদারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে বলে জানা গেছে। সঙ্গত কারণেই আমির খসরু চাকরি ফিরে পেতে তার স্ত্রী মর্জিনাকে হুমকি দিয়ে মামলা উঠিয়ে নেয়ার পায়তারা করছে বলে প্রতীয়মান হয়।


