খুঁজুন
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

অনৈতিক সম্পর্কের ফাঁদ ও প্রতারণা

‘২ মাসের বেশি রিলেশনে থাকি না, টেস্ট চেঞ্জ করতে ভালো লাগে’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
‘২ মাসের বেশি রিলেশনে থাকি না, টেস্ট চেঞ্জ করতে ভালো লাগে’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই নারী কেবিন ক্রুর বিরুদ্ধে প্রেমের নামে প্রতারণা ও নগদ অর্থ, সোনা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন বিমানের বিজনেস ক্লাসের দুই যাত্রী। তাদের মধ্যে একজন বিচার চেয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন। আরেকজন অভিযোগের পাশাপাশি মামলাও করেছেন আদালতে।

বিমানের অভিযুক্ত দুই কেবিন ক্রুর নাম এম এস টি মৌরি ও খাদিজা সুলতানা শিমু। এর মধ্যে মৌরির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন কাতার প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন। আর শিমুর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ওমর ফারুক। তিনি দেশের একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী দুই যাত্রীর অভিযোগ, মৌরি ও শিমু ভালো বন্ধু। তারা পরিকল্পনা করে অধিকাংশ সময় একই ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন করেন। এ সুযোগে বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। সুযোগ বুঝে নিজেরাই দেন প্রেমের প্রস্তাব। তারপর বিয়ের প্রলোভনে প্রেমিকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন নগদ অর্থ, সোনা, আইফোনসহ মূল্যবান মালামাল। পরে বিয়ের চাপ দিলে সটকে পড়েন।

তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন কেবিন ক্রু এম এস টি মৌরি। তিনি জানান, তিনি কারও সঙ্গে প্রতারণা করেননি। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। অন্যদিকে, এটা ব্যক্তিগত বিষয় বলে এড়িয়ে যান শিমু।

মৌরি ও তার ক্রাইম পার্টনার শিমু বিমানের ইউনিফর্ম ও ইমেজ ব্যবহার করে প্রতিটি ডেসটিনেশনে হাইপ্রোফাইলের প্রফেশনাল ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা প্রেমের জালে ফেলে অর্থ, সম্মান লুট করে নিচ্ছে। আমি চাই বিমান যাতে তাদের চাকরিচ্যুত করে দৃষ্টান্তমূলক নজির স্থাপন করে।-ভুক্তভোগী নাছির উদ্দিন

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্টরা জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে বিমানের কেবিন ক্রুদের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রতারণার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে ‘ইজ্জতের ভয়ে’ যাত্রীদের কেউ বিমানে লিখিত অভিযোগ দেননি। ফলে কারও বিরুদ্ধে তেমন ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। কিন্তু এবার দুজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের সঙ্গে ছবি, ভিডিওসহ পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ জমা দিয়েছেন ওই দুই ভুক্তভোগী। এখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণ হলে চাকরিবিধি অনুযায়ী তাদের চাকরিচ্যুতসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে এ ধরনের প্রতারণার সাহস না পান অন্য কেবিন ক্রুরা।

কাতার প্রবাসী নাছির উদ্দিনের অভিযোগ:

গত ২১ আগস্ট একজন কেবিন ক্রুর বিরুদ্ধে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করেন কাতার প্রবাসী নাছির উদ্দিন। তার লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ‘২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর কাতারের একটি হোটেলে মৌরি নিজেকে বিমানের কেবিন ক্রু হিসেবে পরিচয় দিয়ে আমার সঙ্গে পরিচিত হন। তখন আমার স্ট্যাটাস দেখে কমিটেড রিলেশনে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ১৬ অক্টোবর আবার দোহা ফ্লাইটে গিয়ে আমাকে কল করে হোটেল লবিতে ডেকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। পরদিন তাকে আমি লং ড্রাইভে নিয়ে যাই বিচে। ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর লে ওভারে আমার সঙ্গে ছিল। এ সময় আমার কাছে শপিং করে দিতে আবদার করে এবং তা করে দেই।’

ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘গত ১৪ ডিসেম্বর আমি লন্ডনে যাই বিজনেস ট্রিপে। তখন মৌরি বিমানের শিডিউলার দুজনকে ম্যানেজ করে লন্ডন ফ্লাইটে ওঠেন। তখন তিনি তার কলিগসহ ঘোরাতে এবং শপিং করিয়ে দিতে জোর করে আমাকে ব্যস্ত শিডিউলের মধ্যে। ৩০ ডিসেম্বর আমি বিজনেস মিটিংয়ে ঢাকা আসি। তিনি ৫ জানুয়ারি ফ্লাইট থেকে ফিরে আমার জন্মদিন পালন করেন গুলশান ক্যাপিটাল ক্লাবে। তার কলিগ শিমুর বয়ফ্রেন্ড ওমরের সঙ্গে সিলেটে যাওয়া ও আমাকে কক্সবাজারে নিয়ে যেতে বলে। বিজি শিডিউল থাকায় অপারগ হই। চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি মৌরি তার দেশীয় বয়ফ্রেন্ড রাইয়ানের সঙ্গে থাকেন হোটেল সারিনায়। তারপর থেকে আমার সঙ্গে দূরত্ব শুরু হয়। এরপর থেকেই সে আমাকে মেন্টালি ম্যানিপুলেট করে সব সময় উত্তেজিত করে আমার কথা রেকর্ড করে রাখতো। মার্চের শেষ দিকে প্যারালালি রিলেশনশিপ চালায় কাতার প্রবাসী গাড়ির গ্যারেজের মালিক কায়সারের সঙ্গে।’

এর মধ্যে গত জুনে মৌরি তার জন্মদিনের গিফট হিসেবে আইফোন ১৬ (পিংক কালার) কিনে দিতে বলে, তখন আমি কাতার থেকে আইফোন কিনে পাঠিয়ে দেই বাংলাদেশে। আমি ২৫ জুলাই বিজনেস মিটিংয়ে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুটে যাই। এ খবর জেনে মৌরি শিডিউলারকে ঘুস দিয়ে তার ক্রাইম পার্টনার শিমুসহ ২৫ জুলাই রাতে দোহা যায়। জানতে পারি, তখন তারা কায়সারের সঙ্গে রাতে নাইট ক্লাব হাইডসে (৫৬ ফ্লোর) মদপান করে ভোরে ফেরে হোটেলে।’

লিখিত অভিযোগে আরও জানান, ‘৭ আগস্ট মৌরির সঙ্গে হোটেলে আমার দেখা হয়। তখন তিনি তার আসল মতামত জানান। মৌরি বলেন ‘আমি একজনের সঙ্গে দুই মাসের বেশি রিলেশনে থাকি না, টেস্ট চেঞ্জ করতে ভালো লাগে।’ এটা বলে চলে গিয়ে আমাকে ব্লক করে দেন। আর যোগযোগ করেননি। এখন মৌরির বিরুদ্ধে বিমানে লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় তার আরেক প্রেমিক রাইয়ানকে দিয়ে প্রতিনিয়ত আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী কাতার প্রবাসী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মৌরি ও তার ক্রাইম পার্টনার শিমু বিমানের ইউনিফর্ম ও ইমেজ ব্যবহার করে প্রতিটি ডেসটিনেশনে হাইপ্রোফাইলের প্রফেশনাল ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা প্রেমের জালে ফেলে অর্থ, সম্মান লুট করে নিচ্ছে। আমি চাই বিমান যাতে তাদের চাকরিচ্যুত করে দৃষ্টান্তমূলক নজির স্থাপন করে। যাতে পরবর্তীসময়ে আর কেউ এমন স্ক্যাম করতে সাহস না পায়।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন মৌরি। তিনি বলেন, ‘ওনার (নাছির উদ্দিন) সঙ্গে কথা হয়েছে অনেকদিন। এরপর তিনি আমাকে প্রপোজ করেন। তখন আমি বলেছি বিষয়টা আমি ভেবে দেখবো। আগে আপনাকে চিনি, জানি। পরে জানতে গিয়ে দেখলাম, তিনি অনেক বেশি ড্রিংকস করেন। কল দিয়ে আমাকে অনেক আজেবাজে কথা বলেন। এসব দেখে তো আমি তার সঙ্গে রিলেশনে যাবো না। আর তিনি আমাকে কখনোই শপিং করে দেননি। এর মধ্যে যখন আমি তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেই, তখনই তিনি আমার ক্ষতি করার জন্য পিছু নেন।’

ওমর ফারুকের অভিযোগ:

গত ২০ জুলাই কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন দেশের একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা ওমর ফারুক। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। ৫ আগস্ট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বরাবরও একটি অভিযোগ দেন তিনি।

সিআর মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কেবিন ক্রু শিমুর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর শিমু ওমর ফারুককে বিয়ের আশ্বাস দেন। এই প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে তিনি বিভিন্ন সময়ে ও অজুহাতে বাদীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে থাকেন।

সবশেষ গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর নিজের জন্মদিনে শিমু বাদীর কাছ থেকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটি উপহার হিসেবে নেন। পরবর্তীসময়ে শিমু প্রস্তাব দেন, তাদের বিয়ের সম্পূর্ণ খরচ বাদীকে বহন করতে হবে এবং সেই অর্থ অনুষ্ঠানের আগেই পরিশোধ করতে হবে। তার কথায় বিশ্বাস করে বাদী বিয়ের খরচ বাবদ মোট ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৫১১ টাকা দেন। এর বাইরে আরও চার লাখ টাকা ক্যাশ নেন তিনি। হীরার আংটিসহ সর্বমোট আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা।

ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শিমুর সঙ্গে বিমানের বিজনেস ক্লাসে অনেক ফ্লাই করেছি। টাকা হাতে পাওয়ার পর শিমুর আচরণে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। তখন শিমু ও তার মা নতুন করে অতিরিক্ত ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও আরও অর্থ দাবি করেন। তা না দেওয়ায় একপর্যায়ে শিমু বিয়ে করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।’

তিনি বলেন, ‘সম্পর্কের বিভিন্ন পর্যায়ে শিমু হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে আমার কাছে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও চাইতেন। পরবর্তীসময়ে সেই ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয়। পরে প্রতারণার শিকার হয়ে আদালতে মামলা করি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেবিন ক্রু শিমু গণমাধ্যমকে জানান, এসব তার পার্সোনাল বিষয়। এগুলোর জন্য তাকে ফোন দেওয়া হয়েছে কেন। একথা বলে তিনি সংযোগ কেটে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এ বি এম রওশন কবির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। মৌরির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত করছে ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগ। অভিযোগের ভিত্তি থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হবে। শিমুর বিরুদ্ধেও অভিযোগ পেয়েছি। জেনেছি, তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিকুর রহমানকে একাধিক কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে এ বিষয়ে প্রশ্ন পাঠালেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’—সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনকে হটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। বাংলাদেশের পর পরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে।

উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া।২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না গৃহকর্মীর মৃত্যু: স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক আশফাকের বিচার শুরু