খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২১ আশ্বিন, ১৪৩৩

ভূয়া ক্যাশ বই তৈরি করে কোটি টাকার উপরে আত্মসাতের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
ভূয়া ক্যাশ বই তৈরি করে কোটি টাকার উপরে আত্মসাতের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ব্রাহ্মনবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মুহাম্মদ জমদ্দারের বিরুদ্ধে ভুয়া ক্যাশ বই তৈরি করে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষকদের পিএফ ফান্ডের টাকাসহ অন্যান্য আর্থিক অনিয়ম ও অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে ‘শোকজ’ নোটিশ জারি করেছে এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য জেলা প্রশাসক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট খুব দ্রুত আবেদন করা হতে পারে বলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন জানিয়েছেন।

​আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রধান শিক্ষক নূর মুহাম্মদ জমদ্দারের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত বেতন ও অন্যান্য ফি’র টাকা যথাযথভাবে ব্যাংকে জমা না করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন।

৫ আগষ্টের পর বিদ্যালয়ের সার্বিক দুর্নীতি ও সকল সংকট নিরসনে ২০ দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্র ও স্থানীয়রা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো,স্কুলের সকল অর্থনৈতিক আয়- ব্যয় ও জমার হিসাব প্রদান,পূর্বের ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্ত করা, প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালীন যত অর্থ লুটপাট করেছেন, তার সঠিক হিসেবের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন, এই প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি থেকে আনুসাঙ্গিক আয়ের হিসাবসহ নানাবিধ দুর্নীতির। 

পরর্বতীতে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হোন রাশেদুল হক। তখন জানুয়ারি ২০২০ থেকে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত ক্যাশ-খাতা ও ব্যাংক স্টেটম্যান্ট যাচাই করে এই আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, তার এই কাজ শিক্ষামন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিমালার পরিপন্থী।

 ​এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি রাশেদুল হক স্বাক্ষরিত একটি শোকজ নোটিশ তাকে প্রদান করা হয়। নোটিশে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ব্যাখ্যা লিখিতভাবে প্রদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সে একটি লিখিত জবাব দেন। তবে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি দাবি করেন, প্রধান শিক্ষক যে তথ্য  দিয়েছে তা সন্তোষজনক নয় এবং মূল হিসাব কে পাশ কাটাতে ডুপ্লিকেট অর্থাৎ ভূয়া ক্যাশ বই তৈরি করেছেন যেগুলোতে কোটি টাকার উপরে হিসাব আড়াল করা হয়েছে৷

মৌখিকভাবেও যদি তার অপরাধ স্বীকার করতেন তাহলেও  আত্মসাৎকৃত অর্থ বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা করে দিত তাহলে আমরা  তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতাম না।

​​একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য লিখিতভাবে জেলা প্রশাসকের নিকট যেকোনো সময় আবেদন করবো।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে সত্য নয়। আমার সব কাগজপত্র ঠিক আছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি কমিটির অন্যান্যদের সাথে কথা না বলেই তিনি একক সিদ্বান্তে আমাকে শোকজ প্রদান করেন। আমি শোকজের লিখিত জবাব দিয়েছি। আমি কোন ভূয়া ক্যাশবই তৈরি করিনি, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।বিদ্যালয়ের ফান্ডের টাকা ব্যাংকের টাকা ব্যাংকে না রেখে নিজের ব্যাক্তিগত কাজে ব্যয় করেছেন এ বিষয়ে তিনি বলেন আমি সব টাকা ব্যাংকে জমা করেছি। 

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বলেন, ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি রাশেদুল হক কিছুদিন আগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দিয়েছেন। আমি উনাকে আইনী প্রক্রিয়ায় যেতে বলেছি। যদি উনার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে আইনানুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধান শিক্ষক (নুর মোহাম্মদ) আমাকে কিছু কাগজ দেখিয়েছে। আমরা সবকিছু যাচাই করবো।

সাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তৌহিদের নিকট রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক (নুর মোহাম্মদ  জমদ্দার) টাকা আত্মসাতের কথা জানতে চাই চাইলে তিনি জানান, গত তিন বছর আগে আমি বাঞ্ছারামপুর থেকে চলে এসেছি। আমি ৬ বছর ছিলাম। তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আমি পাইনি।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম ফারুক  জানান, আমাকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অভিযোগ করেছেন। কোন দুর্নীতি করার সুযোগ নাই প্রধান শিক্ষকের। ম্যানেজিং কমিটির তদন্ত করবে। আমরা ব্যক্তিগত ভকবে তদন্ত  করবো। অনিয়ম হলে আমরা বিষয় টা দেখবো। যেহেতু ২০২০- ২০২৫ অনেক সময়ের তথ্য তাই সব কিছু সঠিক ভাবে তদন্ত করতে কিছুটা সময় লাগবে।

সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ সেলিম মিয়া জানান,  প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা বিধি সম্ভ নয়। আমরা প্রতি মাসে স্কুলের আয়-ব্যয়ের হিসাব করে জমা করেছি। ভূল হওয়ার কোন সুযোগ নাই। বর্তমান ও ম্যানেজিং সভাপতি কে ও এর দ্বায় নিতে হবে।

কিছু ক্ষমতাসীন লোক তাকে এই কাজে সহযোগিতা করেন বলে জানা যায়। বর্তমানে চাকরি বাঁচাতে ক্ষমতাসীন কয়েকজন কে মোটা অঙ্কে অবৈধভাবে ঘুষ লেনদেন অভিযোগ ও উঠে এসেছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’—সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনকে হটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। বাংলাদেশের পর পরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে।

উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া।২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না গৃহকর্মীর মৃত্যু: স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক আশফাকের বিচার শুরু