খুঁজুন
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

বিদ্যুৎ ও কয়লার দাম নিয়ে বিরোধ

আদানির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশে লড়তে ব্রিটিশ আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিল বাংলাদেশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
আদানির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশে লড়তে ব্রিটিশ আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিল বাংলাদেশ

ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে কয়লার দাম ও বিদ্যুতের ট্যারিফ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে (এসআইএসি) চলমান মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পক্ষে লড়তে একটি ব্রিটিশ আইনি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটি হলো ‘৩ ভেরুলাম বিল্ডিংস’ (৩ভিবি)। এটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, যারা বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক ও আর্থিক মামলার ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে।

কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে জানান, আদানির বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াইয়ে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন ৩ভিবির কিংস কাউন্সেল ফারহাজ খান। তিনি গত কয়েক মাস ধরে জাতীয় পর্যালোচনা কমিটিকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন।

তাকে সহায়তা করার জন্য বিপিডিবি দুজন স্থানীয় বিশেষজ্ঞও নিয়োগ দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সূত্রমতে, তারা হলেন- পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান রেজওয়ান খান (কারিগরি বিশেষজ্ঞ) এবং ‘দ্য ল কাউন্সিল’-এর পার্টনার ব্যারিস্টার এহসান আব্দুল্লাহ সিদ্দিক (আইনি বিশেষজ্ঞ)।

বিপিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের নাম ইতিমধ্যেই বিপিডিবির পক্ষ থেকে এসআইএসিতে জমা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ব্যারিস্টার এহসান আব্দুল্লাহ সিদ্দিক গণমাধ্যমে বলেন, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র পাননি, তাই মন্তব্য করতে চান না। তবে আদানি চুক্তি পর্যালোচনার সময় তিনি আইনি মতামত দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন।

অন্যদিকে রেজওয়ান খান জানান, তাকে কারিগরি বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, তবে লিখিত নিশ্চিতকরণের অপেক্ষায় আছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা এর আগে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য তার সম্মতি চেয়েছিলেন।

১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত, এসআইএসি এশিয়ায় আন্তর্জাতিক সালিশি নিষ্পত্তিতে বিশেষায়িত একটি শীর্ষস্থানীয়, স্বাধীন ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলো নিয়ে গঠিত জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পাঁচ দিনের মধ্যেই এই নিয়োগ দেওয়া হলো।

এদিকে, পৃথক একটি ঘটনায় আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত কানাডীয় জ্বালানি কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসকে ২০০৫ সালের ছাতক গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান জানান, ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপুটস (আইসিএসআইডি)-এর এই রায় কয়েক দিন আগে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।

বিপিডিবি বনাম আদানি:

বিপিডিবি ও আদানি পাওয়ার ২০১৭ সালের নভেম্বরে ২৫ বছর মেয়াদী বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানির ১,৬০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে।

২০২৫ সালের ২১ মে এক চিঠিতে আদানি পাওয়ারের প্রেসিডেন্ট কৃষ্ণা রাও চুক্তির ১৯.৩ ধারা উল্লেখ করে বিপিডিবিকে ১৫ দিনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করে সালিশি শুরুর আহ্বান জানান। আদানি ৪ জন আন্তর্জাতিক সালিশি বিশেষজ্ঞের নাম প্রস্তাব করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন লরেন্স বু, লুসি রিড, টবি ল্যান্ডাউ কেসি এবং ভি কে রাজা এসসি।

বিতর্কিত কয়লা ট্যারিফের সাথে যুক্ত প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার বকেয়া পাওনা দাবি করে গত বছর সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশনে সালিশি প্রক্রিয়া শুরু করে আদানি পাওয়ার। চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ সালিশের আগে মধ্যস্থতা একটি বাধ্যতামূলক কিন্তু প্রতিপালনে বাধ্যবাধকতাহীন (নন-বাইন্ডিং) ধাপ।

বাংলাদেশের যুক্তি হলো, আদানি কয়লার অত্যধিক দাম ধরছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিপিডিবি আদানির সঙ্গে পুনরায় আলোচনার প্রচেষ্টা জোরদার করে।

কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক অনলাইন বৈঠক কোনো ফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হলে আদানি বিপিডিবিকে পুনরায় মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের অনুরোধ জানায়। জবাবে বিপিডিবি বলেছিল, জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি তাদের মূল্যায়ন শেষ না করা পর্যন্ত মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে না।

আদানির বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান:

গত ২৫ জানুয়ারি পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কমিটির সদস্য মোস্তাক হোসেন খান দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন যে, দেরি হলে বাংলাদেশের আইনি অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

কমিটি বলছে, কয়লার মূল্য নির্ধারণী সূত্র ও কর সংক্রান্ত বিধানের ত্রুটির কারণে বাংলাদেশকে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার গুনতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাউজুল কবির খান বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ঘুষ লেনদেনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রমাণ পেয়েছে কমিটি।

কমিটির তথ্যমতে, তদন্তকারীরা বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের নথিভুক্ত করেছেন, যেখানে অ্যাকাউন্ট নম্বর, তারিখ, সময় এবং সুবিধাভোগীদের রেকর্ড রয়েছে।
সদস্যরা জানান, যুক্তরাজ্যভিত্তিক একজন কিংস কাউন্সেলর নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের একটি দল স্বাধীনভাবে এসব প্রমাণ পর্যালোচনা ও যাচাই করেছে।

আইনি দলটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, অভিযোগকৃত ঘুষ ও দুর্নীতির দায়ে আদানি পাওয়ারের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করার জন্য বাংলাদেশের হাতে যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।

নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার দিতে হবে বাংলাদেশকে:

নাইকো মামলার ক্ষেত্রে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল, তবে ট্রাইব্যুনাল অনেক কম পরিমাণ মঞ্জুর করেছে।

পেট্রোবাংলা এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় পায়নি, তবে একটি সারসংক্ষেপ পাওয়া গেছে এবং মঙ্গলবার বাপেক্সের বোর্ড সভায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আইনি মতামতের জন্য পূর্ণাঙ্গ রায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

২০০৩ সালে ফেনী ও ছাতক গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের জন্য বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ চুক্তি স্বাক্ষর করে নাইকো রিসোর্সেস (বাংলাদেশ) লিমিটেড, যেখানে পেট্রোবাংলা ফেনী থেকে গ্যাস কিনতে সম্মত হয়।

২০০৫ সালে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের কার্যক্রম ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, যখন দুটি অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে (ব্লো-আউট) প্রাণহানি, পরিবেশগত ক্ষতি এবং গ্যাসক্ষেত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

পরবর্তীতে সরকারি তদন্তে নাইকোর খননকাজে গুরুতর ত্রুটি পাওয়া যায়, যার ফলে পেট্রোবাংলা আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবি করে।

পরিবেশ ধ্বংস ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ বাপেক্সের জন্য ১১৮ মিলিয়ন ডলার এবং সরকারের জন্য আরও ৮৯৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’—সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনকে হটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। বাংলাদেশের পর পরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে।

উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া।২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না গৃহকর্মীর মৃত্যু: স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক আশফাকের বিচার শুরু