খুঁজুন
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

ডিজির প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ বাণিজ্য

কুড়িগ্রামে ৩ মাদ্রাসা সুপারের এমপিও স্থগিত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে ৩ মাদ্রাসা সুপারের এমপিও স্থগিত

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় মাদ্রাসা অধিদপ্তরের ডিজি’র প্রতিনিধির জাল চিঠি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড, ফলাফল শীট এবং ডিজি’র প্রতিনিধির জাল স্বাক্ষরে অবৈধভাবে শিক্ষক-কর্মচারী পদে এমপিও করনের অভিযোগে তিন মাদ্রাসা সুপারের এমপিও সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। একই সাথে কেন তাদের বেতন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না জানতে চেয়ে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে শোকজের লিখিত জবাব চেয়েছে মাদ্রাসা অধিদপ্তর।

অন্যদিকে বেশ কয়েকটি মাদ্রাসায় জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিও ভূক্তির অভিযোগ উঠলেও তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি কর্তৃপক্ষ। শোকজকৃত মাদ্রাসা গুলোতে একাধিক পদে এমপিও জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেও শোকজ করা হয়েছে একটি করে পদের নিয়োগ নিয়ে।

জানা যায়, উপজেলার বড়ঘাট গমীর উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে কর্মরত অফিস সহকারী মাহফুজার রহমানের পদে এমপিওভুক্ত করা হয় মাদ্রাসা সুপার আব্দুল আউয়ালের কন্যা আক্তারুন্নাহারকে। একই সময় মাহফুজার রহমানকে এমপিও সিটে দেখানো হয় এবতেদায়ি জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের আগষ্ট মাসে মাদ্রাসা অধিদপ্তর আক্তারুন্নাহারের এমপিও বাতিল করে চাকরির শুরু থেকে পাওয়া সব অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেয়। কিন্তু প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য করে মাত্র এক মাস পরই অক্টোবরে আক্তারুন্নাহারকে আবারও সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে এমপিওভুক্ত করা হয়।

একই এমপিও সিটে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর (সিএলও) ও সিএলএ পদে আরও দু’জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যদিও ওই মাদ্রাসায় কম্পিউটার ল্যাব বা বিজ্ঞানাগারের বাস্তব অস্তিত্ব নেই। ২০১৬ সাল থেকে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক হলেও তা উপেক্ষা করে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে উক্ত সুপারের বড় মেয়ে আরিফুন্নাহার মুন্নিকেও সহকারি মৌলভী শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত করা হয়।

উপজেলার সিরাজউদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় তিন বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি নেই এবং বর্তমানে এডহক কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আল ইমরান। বিধি অনুযায়ী এডহক কমিটির নিয়োগ দেয়ার এখতিয়ার না থাকলেও গত নভেম্বর মাসে নিয়োগের ভুয়া নথিপত্রে নৈশপ্রহরী,আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর তিনটি পদে নতুন এমপিওভুক্তি হয়।

এদিকে বুড়িরহাট আব্দুস ছামাদ মন্ডল দাখিল মাদ্রাসায় অক্টোবর মাসের এমপিও সীটে জালিয়াতির মাধ্যমে সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে ১জন ও কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে ১জন সহ ২জনের নাম এমপিও ভূক্ত হয়েছে। এছাড়া আরো ২পদে এমপিও ভূক্তির পায়তারার অভিযোগ উঠে।

একই ভাবে গত সেপ্টেম্বর মাসে এমপিও সীটে উপজেলার কানুরাম সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসায় কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর (সিএলও) পদে ১জন, সিএলএ পদে ১জন ও সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে ১জন সহ ৩জনের নাম জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিও ভূক্ত হয়।

এছাড়া উপজেলার বেশকিছু মাদ্রাসায় কর্মচারী, সহকারি লাইব্রেরিয়ান এমনকি মৌলভি শিক্ষকের নতুন এমপিও হয়েছে। এসব পদে ব্যাকডেটে পূর্বের কমিটির সদস্যগণের জাল স্বাক্ষরে অধিকাংশ নিয়োগ দেখানো হলেও এমপিও হচ্ছে বর্তমান সময়ে।

উপজেলার ডাংরারহাট আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসায় গোপনে কর্মচারীর চারটি পদে নিয়োগের পূর্বেই ৭৫লক্ষ টাকা মুষ বাণিজ্যের অভিযোগে ডিজি’র প্রতিনিধি বন্ধ রেখে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী ও অভিভাবক বৃন্দ।

এভাবে বৈধ নিয়োগ ছাড়াই একটি অসাধু চক্রের যোগসাজসে জাল কাগজে এমপিও ভূক্তির মাধ্যমে কয়েকজন মাদ্রাসা সুপাররা প্রতিটি পদে ১৫লক্ষ থেকে উপরে ২০লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়ে ২০টি পদে নিয়োগ বাণিজ্য করেন। এছাড়া আরও ১৫টি পদে এমপিও বাণিজ্যের পায়তারা চলছে। সহ মিলে এমপিও বাণিজ্যে গত পাঁচ মাসে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠে। এরপ্রেক্ষিতে রাজারহাট উপজেলার বড়ঘাট গমীর উদ্দিন ও কানুরাম সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসায় জাল কাগজপত্রে সহকারী মৌলভী শিক্ষক পদে এমপিও ভূক্তির অভিযোগে এবং চাকিরপশার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে মহাপরিচালকের প্রতিনিধির চিঠি জাল করে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড ও ফলাফল শীট তৈরি এবং ডিজির প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে উক্ত সুপারদের বেতন সাময়িক স্থগিত করে কেন স্থায়ী ভাবে তাদের এমপিও বন্ধ করা হবে না জানতে চেয়ে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারঃ) কামরুল ইসলাম উল্লেখিত তিন সুপারকে মাদ্রাসা অধিদপ্তর থেকে শোকজের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সিরাজ উদ্দিন মাদ্রাসায় ব্যাকডেটে নিয়োগ দেখিয়ে এমপিও জালিয়াতির ঘটনা জানিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’—সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনকে হটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। বাংলাদেশের পর পরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে।

উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া।২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না গৃহকর্মীর মৃত্যু: স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক আশফাকের বিচার শুরু