খুঁজুন
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

মোড় বন্ধ করে ইউটার্ন চালু, ঢাকার সড়কে ফিরছে গতি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
মোড় বন্ধ করে ইউটার্ন চালু, ঢাকার সড়কে ফিরছে গতি

রাজধানী ঢাকার যানজট যেন এই শহরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভ্যাপসা গরমে সড়কে আটকে থাকা নগরবাসীর জন্য প্রায় নিত্যদিনের বাস্তবতা। সকাল থেকে শুরু হওয়া যানজট অনেক এলাকায় চলে গভীর রাত পর্যন্তও। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি কোনোবারই। তবে এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে যানজটের নগরীর সড়কে কিছুটা গতি ফিরিয়েছে ৭০টি ইন্টারসেকশন।

সম্প্রতি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ৭০টি মোড় বা ইন্টারসেকশনে আনা হয়েছে বিশেষ পরিবর্তন। এসব মোড়ের আগে কিংবা পরে চালু করা হয়েছে ইউটার্ন ব্যবস্থা। আগে যেখানে তিন বা চারমুখী সড়কে চলাচলে সিগন্যাল বন্ধের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহনের জট তৈরি হতো, সেখানে এখন তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক গতিতে চলছে গাড়ি। এতে কমছে যানজট, ফলে লাঘব হয়েছে জনভোগান্তি।

সম্প্রতি রাজধানীর বেশ কয়েকটি ইন্টারসেকশনে দেখা গেছে, নতুন ব্যবস্থায় বেশ কয়েকটি চতুর্মুখী মোড়ে এক বা একাধিক সড়কের মুখ বন্ধ রেখে সুবিধাজনক স্থানে ইউটার্ন স্থাপন করা হয়েছে। ফলে ইউটার্ন নেওয়া গাড়ি ও সিগন্যাল অতিক্রম করা গাড়িগুলো চলন্ত অবস্থায় থাকছে। ইউটার্নের কারণে অন্য রুটে গাড়ি চলাচলেও কোনো বাধার মুখে পড়ছে না।

রাজধানীর বিভিন্ন মোড় বা ইন্টারসেকশন ঘুরে দেখা গেছে, সংসদ ভবন সংলগ্ন আড়ং সিগন্যালে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গাবতলী থেকে নিউমার্কেটগামী যানবাহন সংসদ ভবনের সামনে ইউটার্ন নিয়ে সরাসরি চলে যাচ্ছে। এতে ধানমন্ডি থেকে গাবতলীগামী সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকছে। ফার্মগেট থেকে গাবতলী বা নিউমার্কেট থেকে ফার্মগেটগামী যানবাহনগুলো একটি সিগন্যালের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে আড়ংয়ের মোড়ে আর আগের মতো দীর্ঘ যানজট নেই।

আড়ং সিগন্যাল থেকে কিছুটা এগিয়ে গেলে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের সিগন্যাল। সেখানেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। আগে আড়ংয়ের দিক থেকে আসা শংকরগামী যানবাহন ধানমন্ডি ২৭ সিগন্যাল অতিক্রম করে যেতে হতো। এতে ধানমন্ডি থেকে গাবতলী বা ফার্মগেটগামী গাড়িগুলো সেই মোড়ে অতিরিক্ত সময় আটকে থাকতো। বর্তমানে পথটি বন্ধ করে সোবহানবাগ মসজিদের সামনে ইউটার্ন দেওয়া হয়েছে। ফলে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না এবং বন্ধ হয়েছে জট।

এছাড়া রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুটি এবং শাহবাগে একটি রাস্তার মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ দুই জায়গায় নতুন করে চালু করা হয়েছে দুটি ইউটার্ন। শাহবাগে বারডেম হাসপাতালের সামনের সিগন্যালটি বন্ধ করে ঢাকা ক্লাবের সামনে ইউটার্ন দেওয়া হয়েছে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কাঁটাবনমুখী যানবাহনগুলো ঢাকা ক্লাবের ইউটার্ন থেকে ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

নিউমার্কেট থানা মোড় থেকে নিউমার্কেটগামী গাড়িগুলো এখন ইডেন কলেজের সামনের ইউটার্ন থেকে ঘুরে আসতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে নীলক্ষেত মোড়ে সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিজয় সরণি ট্রাফিক সিগন্যালেও একটি সড়ক বন্ধ করে ফার্মগেট সংলগ্ন এলাকায় তৈরি করা হয়েছে ইউটার্ন। এ ব্যবস্থার ফলে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে কমেছে যানজট।

নতুন এই সিস্টেমের বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে ফার্মগেট বাস পয়েন্টে গাড়ির অপেক্ষায় থাকা জোবায়ের মাহমুদ নামে একজন পথচারী বলেন, ‘আমাদের জন্য বেশ উপকার হয়েছে বলা যায়। আগে ধরেন শাহবাগ সিগন্যাল পার হতে কত সময় লাগবে তার ঠিক ছিল না। আর এখন জ্যামে পড়লে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। খুব সহজেই শাহবাগ সিগন্যাল পার হয়ে যেতে পারি।’

শ্যামলী থেকে নিয়মিত ধানমন্ডি যাতায়াত করেন মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, যখন আড়ংয়ের সিগন্যাল সরাসরি পার হওয়া যেতো তখন একটা সিগন্যাল চালু থাকলে বাকি তিনটা রোড বন্ধ থাকতো। এখন একটা সিগন্যাল বন্ধ করে ইউটার্ন করে দেওয়ার কারণে একসঙ্গে চারটা রাস্তার গাড়িই চলাচল করতে পারে। আগে একবার সিগন্যাল বন্ধ করলে তিন দিকের গাড়ি যাওয়ার পর সিগন্যাল ছাড়তো। এখন আর অনেকক্ষণ সিগন্যালে বসে থাকতে হয় না। সবদিকের গাড়িই যাতায়াত করতে পারে। এটা অবশ্যই মানুষের চলাচলের জন্য অনেকটা ভালো কাজ হয়েছে।

গাবতলী-নিউমার্কেট রুটে চলাচলকারী একটি পরিবহনের চালকের সহকারী বলেন, আগে আড়ং মোড়ের সিগন্যাল পার হতে দু-তিনবার সিগন্যাল ধরতে হতো। এখন সংসদ ভবনের সামনে ইউটার্ন থাকায় গাড়িগুলো সিগন্যালে থেমে থাকতে হয় না। চলন্ত অবস্থায় থাকে। যদিও সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে ইউটার্ন নিতে হয় তারপরও ভালো জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না।

ওয়েলকাম গাড়ির একজন চালক বলেন, ‘অনেক রাস্তা বন্ধ করে ইউটার্ন করে দেওয়ায় এসব জায়গায় এখন জ্যামে বসে থাকতে হয় না। জ্যাম হয় তবে তুলনামূলক অনেক কম সময়ে আমরা সিগন্যাল পার হয়ে যেতে পারি।’

রাজধানীর বিজয় সরণির ট্রাফিক সিগন্যালে দায়িত্বরত একজন ট্রাফিক পুলিশ বলেন, ইন্টারসেকশনের মাধ্যমে ইউটার্নগুলো করার কারণে গাড়িগুলো রানিংয়ের ওপর থাকে। সেক্ষেত্রে যেখানে ঘন ঘন ইউটার্ন আছে সেখানে ঘন ঘন ক্রসিং আছে। ঘন ঘন ক্রসিং হলে এক্সট্রা জনবল লাগছে, এক্সট্রা সময় যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে যানবাহন যদি একটা মুভমেন্টে থাকে তাহলে সেটা অবশ্যই যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবেই।

কারওয়ান বাজার ট্রাফিক সিগন্যালে দায়িত্বরত আরেকজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বলেন, ইন্টারসেকশনের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থায় উন্নতি হয়েছে। গাড়িগুলো চলন্ত অবস্থায় থাকছে। ইউটার্নের কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে যানজট হচ্ছে না।

ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে ঢাকার সড়কে যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র পাঁচ কিলোমিটারে। তবে ইন্টারসেকশন চালুর পর ২০২৫ সালে ঢাকার সড়কে গড় গতি বেড়ে হয়েছে ১০ কিলোমিটার। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায় যানজটও অনেকাংশে কমেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার ট্রাফিক বিভাগে যোগ দেন। এরপর থেকেই রাজধানীর যানজট কমাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভিডিও নজরদারি ও ডিজিটাল মামলা বৃদ্ধির পাশাপাশি ৭০টি ইন্টারসেকশনের নতুন বিন্যাস করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নতুন কেউ যোগদান না করা পর্যন্ত মো. সরওয়ার সেই দায়িত্ব পালন করছেন।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’—সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনকে হটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। বাংলাদেশের পর পরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে।

উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া।২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না গৃহকর্মীর মৃত্যু: স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক আশফাকের বিচার শুরু