যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে বেধড়ক নির্যাতন, গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
০৭ মে ২০২৬ ১১:১৭ পিএম
যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে বেধড়ক নির্যাতন, গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি

সিরাজগঞ্জ উপজেলার চক কোবদাসপাড়া গ্রামের সোহাগ শেখ নামের এক ব্যক্তি যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে। গুরুতর জখম হয়ে গৃহবধূ মায়েশা আক্তার মীম বর্তমানে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা সহ মীমের মাথায় ১০টি সেলাই দিয়েছে। গত ৪ এপ্রিল রাতে এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই কিছু দিন পরপর গৃহবধূকে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দেয় স্বামী সোহাগ। টাকা আনতে না পারলেই শুরু হয় নির্যাতন। কারণ যৌতুকের টাকা দাবী এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ধাপে ধাপে ৪ লক্ষ ৬৫ টাকা যৌতুক নিয়েছে এই সোহাগ।

ভুক্তভোগী ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোহাগ শেখের সাথে মীমের বিয়ে হয় ২০১৭ সালে। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় যৌতুকের জন্য নির্যাতন। ২০১৯ সালে ৩ লক্ষ টাকা, ২০২১ সালে ৫০ হাজার টাকা, ২০২২ সালে ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা যৌতুক নেয় সোহাগ। যৌতুক পাওয়ার পর কিছু দিন ভালোই কাটে, তারপর পুনরায় শুরু হয় সেই আগের মতোই অমানবিক নির্যাতন।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, অনেক দিন ধরেই আবারও ২ লক্ষ টাকা দাবি করে আসছে সোহাগ। তাই মেয়েটা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়িতে চলে আসে। মেয়েটার ১ ছেলে (৬) ও ১ মেয়ে (৩) থাকার কারনে বার বার নির্যাতিত হওয়ার পরও স্বামী সোহাগের বাড়িতে যায়। কিন্তু অমানুষ সোহাগ নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

নির্মমভাবে মারধরের বর্ণনা করে ভুক্তভোগী বলেন, ‘সোহাগ মারার সময় হাতের কাছে যা পায় তা দিয়েই নির্যাতন করে। বিশেষ করে সোহাগ লাঠি ও প্যান্টের বেল্ট খুলে বেশি মারধর করে। এইবার বেধড়ক মারার সময় আমি বাঁধা দিলে সোহাগ আরও ক্ষিপ্ত হয়। এ-সময় আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সোহাগ লোহার দা দিয়ে কোপ মারার কারণে মাথা ফেঁটে (কেটে) প্রচুর রক্ত বের হতে শুরু হয়। তখনই দ্রুত আমাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমার মাথার কাটা অংশে ১০টা সেলাই দেওয়া হয়। মূলত আমাকে মেরে ফেলার জন্যই সোহাগ কোপ দেয়। আমি দুইহাত দিয়ে ধরে ফেলায় হয়তো আমি প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। আমি চাই এই অমানুষ, বদমায়েশের শাস্তি হোক।’

নির্যাতিত মেয়ের পরিবার সিরাজগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত অফিসার মোঃ রেজাউল করিম সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভুক্তভোগী মায়েশা আক্তার মীমকে দেখতে আসেন। এসআই মোঃ রেজাউল করিম ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে আসামি সোহাগকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...