খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী

সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। থেমে থেমে নয়, কখনো মাঝারি আবার কখনো ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে পুরো কক্সবাজারে। এমন বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই একদিনের সফরে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তার আগমনকে ঘিরে পুরো জেলায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং সফরসূচির প্রতিটি স্থান কার্যত নিরাপত্তা বলয়ে পরিণত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সকাল ১০টার দিকে তিনি বিমানবন্দরের ভিআইপি গেট দিয়ে বের হন। এ সময় ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহম্মদ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনেককে হাতে ছাতা, আবার অনেককে ভিজেই প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কক্সবাজার শহরের চিত্র ছিল ভিন্ন। বিমানবন্দর সড়ক, হলিডে মোড়, কলাতলী, সুগন্ধা পয়েন্ট, বাস টার্মিনাল, লিংক রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয় চেকপোস্ট। নিরাপত্তাবাহিনী, সরকারি অতিথি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বহনকারী যানবাহন ছাড়া সাধারণ যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

এর ফলে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কক্সবাজার বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করা যাত্রীদের অনেকেই যানবাহন সংকটে পড়েন। বৃষ্টির কারণে এমনিতেই চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল, তার ওপর নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধে অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় যানজট ও ধীরগতির যান চলাচলের ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন এবং সেখানে আয়োজিত পথসভায় অংশ নেবেন। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত এ প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এরপর তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরে প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলায় গিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দিতে এ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া সফরে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং নতুন মাতামুহুরি উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ দুটি প্রশাসনিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিকেলে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত এক রাজনৈতিক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ জনসভাকে ঘিরে চকরিয়াসহ আশপাশের উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জনসভাস্থলে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন। পরে রাতে কক্সবাজার শহরের লং বিচ হোটেলের অডিটোরিয়ামে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন।

সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।

সবশেষ রাতেই কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে রাত ১১টার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে কক্সবাজারে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। টানা বৃষ্টি সত্ত্বেও সফরসূচির প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা তৎপর রয়েছেন।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’—সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনকে হটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। বাংলাদেশের পর পরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে।

উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া।২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না গৃহকর্মীর মৃত্যু: স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক আশফাকের বিচার শুরু