খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৬ ভাদ্র, ১৪৩৩

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ৪ খলিফার নামে কোম্পানি, ভারতেও আছে দেবতার নামে ইউনিট

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ৪ খলিফার নামে কোম্পানি, ভারতেও আছে দেবতার নামে ইউনিট

সামাজিক মাধ্যমে একটি খবর ছড়িয়েছে যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়ন’ নামে একটি নতুন ব্যাটিলয়ন গঠন করেছে। এই নতুন ব্যাটেলিয়নের অধীনে মোট ৪টি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছে ইসলামের চার খলিফা হযরত আবু বক্কর (র), হযরত উমর (র), হযরত উসমান (র) এবং হযরত আলী (র) এর নামে।

এ বিষয়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে কোন খবর প্রকাশিত হয়নি। তবে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে গুজবধর্মী একাধিক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে।

দ্য ডিসেন্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুটি সূত্র থেকে খবরটির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। দুটি সূত্রই মিডিয়ার সাথে কথা বলার জন্য অনুমোদিত না হওয়ায় তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেইজে গত ১৮ জুন প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতেও নতুন ব্যাটেলিয়ন উদ্বোধনের বিষয়ে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএ’তে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ এর শুভ উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএমএ-তে প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটগণের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘১ম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ এর পাশাপাশি ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।”

সেনাবাহিনীর দুটি সূত্র থেকেই জানা গেছে যে, সম্প্রতি দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়নটি গঠিত হয়েছে। এর আগে ‘প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়ন’ নামে একটি ব্যাটেলিয়ন ছিল যেখানে মোট ৬টি কোম্পানি রয়েছে। এর সাথে নতুন ব্যাটেলিয়ন যুক্ত হলো, যেটিতে ৪টি কোম্পানি করা হয়েছে। এই চার কোম্পানির নামকরণ করা হয়েছে ইসলামের চার খলিফার নামে। প্রথম বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়নের ৬ কোম্পানির নাম বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীরদের নামে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটেলিয়নে আরও দুটি কোম্পানির প্রস্তাব করা হয়েছে যেগুলো হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ নারী কোম্পানি। তবে নবী মুহাম্মদ (স) এর কন্যা ফাতেমা (র) এবং স্ত্রী আয়েশা (র) এর নামে প্রস্তাবিত কোম্পানি দুটি এখনও অনুমোদিত হয়নি।

মূলত, সেনাবাহিনীতে প্রতিবছর রিক্রুট করা ক্যাডেটের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নতুন আরেকটি ব্যাটেলিয়নের প্রয়োজন পড়ে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

ভারতীয় কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া:

নতুন ব্যাটালিয়নের কোম্পানিগুলোর ইসলামের চার খলিফার নামে নামকরণের বিষয়টি নিয়ে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব খবরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এমন সিদ্ধান্তকে সশস্ত্র বাহিনীর ‘ইসলামীকরণ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যদিও ভারতীয় সেনাবাহিনীতে একাধিক ইউনিটের নাম হিন্দু দেবতাদের নামে রয়েছে।

নবভারত টাইমস নামে একটি সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম করা হয়েছে, “Bangladesh Army: Is General Zaman forming an Islamic army for Bangladesh? A company named after the Prophet’s first four caliphs.”

অন্যদিকে নর্থইস্ট নিউজ নামে একটি ওয়েবসাইটে শিরোনাম করা হয়েছে, “Bangladesh Army’s new battalion has Umar, Abu Bakr, Ali and Usman companies.”। প্রতিবেদনের ভেতরে মন্তব্য হিসেবে আরও লেখা হয়েছে, “Naming the four companies after close companions and fathers- and sons-in-law is a sign of growing Islamisation within the rank and file of the Bangladesh Army.”

অর্থাৎ, চার খলিফার নামে নামকরণকে সেনাবাহিনীর ‘ইসলামীকরণ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

যদিও যে কোন দেশের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয়াদির নামকরণের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন নতুন কোনো বিষয় নয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীই তাদের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় চেতনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তাদের ইউনিটের নামকরণ বা রণধ্বনি নির্ধারণ করে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানেও শতবর্ষ ধরে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য, পৌরাণিক বীরগাথা এবং সংস্কৃত শ্লোকের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইউনিটের নাম হিন্দু দেবতা ও প্রতীকের নামে:

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কয়েকটি কোর, বিগ্রেড, ব্যাটালিয়ন রয়েছে যেগুলোর নাম সরাসরি হিন্দু দেবতার সঙ্গে যুক্ত প্রতীক থেকে নেওয়া হয়েছে।

একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি এলিট ব্যাটালিয়নের নামকরণ করা হয়েছে ‘ভৈরব ব্যাটেলিয়ন’ নামে। ভৈরব হচ্ছে হিন্দু দেবতা শীবের অগ্নিমূর্তি।

এছাড়া কয়েকটি ইউনিটের নাম রয়েছে যেগুলো হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন প্রতীকের নামে।

যেমন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৭ কোরকে বলা হয় ব্রহ্মাস্ত্র কোর, ২১ কোরকে বলা হয় সুদর্শন চক্র কোর, ৩৩ কোরকে বলা হয় ত্রিশক্তি কোর, ১১ কোরকে বলা হয় বজ্র কোর, ১০ কোরকে চেতক কোর বলা হয়।

ব্রহ্মাস্ত্র হিন্দু পুরাণের অন্যতম শক্তিশালী দিব্যাস্ত্র। এটি মহাভারত ও রামায়নে বহুবার এর উল্লেখ রয়েছে। হয়েছে। নামটির সঙ্গে সরাসরি ব্রহ্মা-প্রদত্ত অস্ত্রের সম্পর্ক রয়েছে এবং সামরিক শক্তির সর্বোচ্চ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত এটি হয়েছে।

সুদর্শন চক্র হলো বিষ্ণু এবং তাঁর অবতার কৃষ্ণের ঐশ্বরিক অস্ত্র। হিন্দুধর্মে এটি ধর্মরক্ষা, ন্যায় ও অশুভ বিনাশের প্রতীক।

বজ্র মূলত বৈদিক দেবতা ইন্দ্রের অস্ত্র। ঋগ্বেদে ইন্দ্র বজ্র দিয়ে বৃত্রকে বধ করেন।

ত্রিশক্তি শব্দটি “তিন শক্তি” অর্থে ব্যবহৃত। শক্তি হিন্দুধর্মে দেবী বা মহাশক্তির অন্যতম মৌলিক ধর্মতাত্ত্বিক ধারণা। যদিও “ত্রিশক্তি” কোনো নির্দিষ্ট দেবীর নাম নয় তবে দুর্গা, কালী, পার্বতী প্রমুখ দেবীদের সমষ্টিগত শক্তির ধারণার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

চেতক ছিলেন মহারানা প্রতাপের কিংবদন্তিতুল্য ঘোড়া। মহারানা প্রতাপকে ভারতে বহু হিন্দু জাতীয়তাবাদী বর্ণনায় মুঘল সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে হিন্দু প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর রণধ্বনিতে হিন্দুধর্মের প্রভাব
ভারতীয় সেনাবাহিনীর রেজিমেন্টাল কাঠামো ব্রিটিশ আমল থেকেই এমনভাবে গড়ে উঠেছে, যা মূলত ভারতের আঞ্চলিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সাথে অবিচ্ছেদ্য। অধিকাংশ রেজিমেন্টের রণধ্বনি (War Cry) এবং আদর্শিক ভিত্তি সরাসরি হিন্দু দেব-দেবী বা প্রাচীন বীরদের নাম থেকে অনুপ্রাণিত।

যেমন, রাজপুত ও বিহার রেজিমেন্ট তাদের রণধ্বনিতে ভগবান হনুমান বা ‘বজরং বলী’-কে স্মরণ করে, যিনি হিন্দু পুরাণে অসীম শক্তি, আনুগত্য এবং অজেয় সাহসের প্রতীক। একইভাবে, কুমায়ুন রেজিমেন্ট রণক্ষেত্রে দেবী কালিকার নাম নেয়, যিনি অশুভ বিনাশকারী শক্তির মূর্ত প্রতীক, যা সৈনিকদের কঠিনতম মুহূর্তেও ভয়হীন লড়াই করার সাহস জোগায়।

আবার হিমালয় অঞ্চলের গাড়োয়াল রাইফেলস তাদের রণধ্বনিতে ভগবান বদ্রীনাথ বা ‘বদ্রি বিশাল’-এর আশীর্বাদ প্রার্থনা করে, যিনি স্থিতিশীলতা ও রক্ষাকর্তার প্রতীক। ডোগরা এবং নাগা রেজিমেন্ট যথাক্রমে দেবী জ্বালা এবং দেবী দুর্গার শরণ নেয়, যারা আদ্যাশক্তি ও অসুর বিনাশিনী হিসেবে পরিচিত।

মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রি তাদের ঐতিহ্যের সাথে শিব ও ভবানী মাতাকে যুক্ত রেখেছে; ‘হর হর মহাদেব’ এবং ‘ভবানী মাতা কী জয়’ ধ্বনি তাদের বীরত্ব ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির পরিচায়ক। এছাড়া, ‘ব্রিগেড অফ দ্য গার্ডস’ তাদের রণধ্বনিতে বিষ্ণুর বাহন গরুড়কে স্মরণ করে, যা মূলত দ্রুততা, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এবং শত্রুর ওপর ক্ষিপ্রগতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার সংকেত দেয়।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’—সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনকে হটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। বাংলাদেশের পর পরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে।

উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া।২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না গৃহকর্মীর মৃত্যু: স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক আশফাকের বিচার শুরু