খুঁজুন
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৫ ভাদ্র, ১৪৩৩

শিক্ষার্থী আন্দোলনের আড়ালে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র, আছে ছাত্রলীগ

চলছে নৈরাজ্য: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
চলছে নৈরাজ্য: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা

সম্প্রতি দেশের কয়েক জেলায় সৃষ্ট বন্যায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ব্যাঘাত ঘটে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায়। তারই রেষ ধরে চলছে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সহ নানা দাবিতে আন্দোলন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পূর্ব ঘোষিত গতকাল বৃহস্পতিবারের লংমার্চ কর্মসূচিতে রাস্তায় নামেননি আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তারা জানিয়েছেন, জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। তবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে অনড় অবস্থানে আছেন তারা।

গতকাল (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা এ ঘোষণা দেন। তারা বলেন, যে কোনো সময় নতুন কর্মসূচি আসতে পারে।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তারা মূলত ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন না উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে ধানমন্ডির আইডিয়াল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মো. রায়ান বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে তারা সাময়িকভাবে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। এটি আন্দোলনের সমাপ্তি নয়।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, তাদের মূল দাবিগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে। এগুলো হলো-
★এমসিকিউ ও সিকিউ পরীক্ষার নম্বর একত্রে যোগ করে পাস নম্বর নির্ধারণ করতে হবে।
★দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের আবার পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিতে হবে।
★শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।

দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। যেকোনো সময় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আইডি কার্ড ছাড়া আন্দোলনে আসতে নিষেধাজ্ঞা:

এইচএসসি শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা জানান, ভবিষ্যতে পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ছাড়া কাউকে আন্দোলনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। তাদের দাবি, যারা সরকার পতনের স্লোগান দিয়েছেন কিংবা আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, তারা কেউই প্রকৃত পরীক্ষার্থী নন। সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামে একটি ফেইসবুক পেজের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও নাকচ করেন তারা।

কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়:

চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আন্দোলনে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনেক অছাত্রও অংশ নিয়েছেন। সরকারকে বিব্রত করতে চায় কিছু মহল। তারা মূলত ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এ ধরনের আন্দোলনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।’

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে অবস্থান পরিষ্কার করেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের আবার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে।

পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নের বিষয়ে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত করবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই দুটি প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর পরীক্ষার্থীদের দেওয়ার সিদ্ধান্তও ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যারা দ্বিতীয় দিনের পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারেননি, তাদেরও বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর একটি মন্তব্য নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই মন্তব্যে অনেকে কষ্ট পেয়েছেন এবং এ কারণে শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষার মানের সঙ্গে আপস নয়:

ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন হতে দেবে না এবং নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে বদ্ধপরিকর। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অটোপাস, অতিরিক্ত নম্বর প্রদান এবং ঢালাওভাবে জিপিএ ৫ দেওয়ার সংস্কৃতির কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পুলিশকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা:

বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সব জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই চলবে। গতকাল রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

মাইলস্টোনের সাবেক ছাত্রীর ভেলকিবাজি, থানায় জিডি:

এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া মাইলস্টোন কলেজের সাবেক এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। রুবাইয়া মেহজাবিন সুহি নামে ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কলেজ থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

গতকাল দুপুরে ঢাকার তুরাগ থানায় কলেজের সিকিউরিটি অফিসার মুহাম্মদ জহুরুল ইসলামের মাধ্যমে জিডি করা হয়। তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষে এ জিডি করেন। তুরাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল ইসলাম রানা জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকার পতনের ষড়যন্ত্র:

বিএনপি সরকার গঠন করেছে খুব বেশিদিন হয়নি। এই সুযোগেই শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে ‘আগুনে ঘি’ ঢালার মতো ইন্ধন দিচ্ছে কিছু কুচক্রী মহল। ইতোমধ্যে কয়েকটি যায়গায় বহিরাগত ও অছাত্রদের উপস্থিতি হাতেনাতে ধরেছে প্রশাসন ও গণমাধ্যম। এমনকি কিছু যায়গায় কথিত আন্দোলনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীদেরকেও আটক করতে দেখা গেছে।

এরইমধ্যে একজন ছাত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা এই শিক্ষামন্ত্রীকে চাইনা, আমরা শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দীপু মনিকে চাই’। কারণ জানতে চাইলে ওই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সরাসরি বলেন, “আগের সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা সহজ করেছিলো, দীপু মনি আমাদের অটোপাশ দিতো।”

আরেক যায়গায় তাদের বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের আগে প্রশ্ন সহজ হতো, পরীক্ষার হলে গার্ড এতো কড়া হতো না। আমাদেরকে অটোপাশ দিয়েও পাশ করিয়েছে। কিন্তু এই সরকার আমাদের পড়ালেখা কঠিন করছে। আমরা এই সরকার চাই না। পরক্ষণেই তারা বলেন, আমরা সরকার পতন চাই না, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই।”

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’—সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনকে হটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। বাংলাদেশের পর পরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে।

উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া।২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না গৃহকর্মীর মৃত্যু: স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক আশফাকের বিচার শুরু