খুঁজুন
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৫ ভাদ্র, ১৪৩৩

যে কারণে নীরবে উদ্বোধন হলো ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীস্তম্ভ পার্ক

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
যে কারণে নীরবে উদ্বোধন হলো ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীস্তম্ভ পার্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের কামাউড়া নামক স্থানে অনেকটা চুপচাপ অনাড়ম্বর পরিবেশে উদ্বোধন করা হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত ভারতের মিত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর স্মরণে নির্মিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীস্তম্ভ পার্ক। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পার্কটির উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঠিকাদার ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে আশুগঞ্জের কামাউড়ায় মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মারক ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীস্তম্ভ ও পার্কের নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে গত বছরের (২০২৫) নভেম্বর মাসে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এটি উদ্বোধন করার কথা ছিল।

কিন্তু বৃহস্পতিবার অনেকটা নীরবেই ফিতা কেটে উদ্বোধন করা হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দুই দেশের স্মৃতি স্মারক দৃষ্টিনন্দন মৈত্রীস্তম্ভ পার্কটি।

অনাড়ম্বর পরিবেশে পার্কটির উদ্বোধন সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাস আবু সাঈদ বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছিলাম। তারা সবাই আসলে একসঙ্গে হতে পারছেন না। আমাকে বলেছেন, উদ্বোধন করার জন্য। কারণ পার্কটির জিনিসপত্র ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হতে চলেছে। তাই জনসাধারণের জন্য দ্রুত পার্কটি উন্মুক্ত করার জন্যই অনাড়ম্বর পরিবেশে উদ্বোধন করা হয়েছে।’

অপর এক প্রশ্নে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ গণমাধ্যমে জানান, এটির জনসাধারণের জন্য জেলা প্রশাসনের অধীনে আপাতত উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতি ২০ টাকা করে প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মৈত্রীস্তম্ভ পার্কটিতে কী আছে জানতে চাইলে জানান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আদলে মুক্তিযুদ্ধের কিছু স্মৃতি চিহ্ন রয়েছে। ভেতরে থাকা নামের তালিকায় কাদের নাম আছে? জানতে চাইলে কৌশলে এড়িয়ে যান।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মুক্তিযোদ্ধা জানান, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে স্বাভাবিক না থাকায়, অনেকটা অনাড়ম্বর পরিবেশে পার্কটি উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকর্মের ওপর আঘাত আসতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই নীরব পরিবেশে উদ্বোধনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। এর বেশি কথা বলতে চাননি তিনি।

যে কারণে আশুগঞ্জে মৈত্রীস্তম্ভ:

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ১৯৭১ সালে তুমুল যুদ্ধের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পূর্বাঞ্চলের আখাউড়া ৬ ডিসেম্বর মুক্ত হয়। পরে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা অগ্নিঝরা দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে অগ্রসর হন। কোনও ধরনের প্রতিরোধ যুদ্ধ ছাড়াই ৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত হয়। পরে ভারতের ৪র্থ মাউন্টেন ডিভিশনের মিত্র বাহিনীর সদস্যরা ও মুক্তিবাহিনীর এস ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহর নেতৃত্বে যৌথভাবে আশুগঞ্জের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে ভুল তথ্যের কারণে ৯ ডিসেম্বর রাতে আশুগঞ্জ সোহাগপুর ও কামাউড়া এলাকায় মিত্রবাহিনীর সদস্যরা এলে আগে থেকে ওতপেতে থাকা পাক বাহিনীর সদস্যরা তীব্র হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে ভারতের অনেক সৈন্য প্রাণ হারান, হতাহত হন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। এই যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের এই আত্মত্যাগের স্মরণে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আশুগঞ্জে ‘মৈত্রী স্মারক’ স্মৃতিস্তম্ভ পার্কটি নির্মাণ করে।

স্থানীয়রা জানান, এই মৈত্রী স্মারকের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।

কী আছে মৈত্রী স্মৃতিস্তম্ভে:

ভেতরে প্রবেশ করার আগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে রয়েছে গ্লাসের দৃষ্টিনন্দন বেষ্টনী। পরে চোখে পড়বে ১৯৭১ এর অগ্নিঝরা দিনগুলো দেয়ালে ভাস্কর্য আকারে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ছেলে সন্তানসহ নারী-পুরুষরা উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে চলে যাওয়ার দৃশ্য, মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনে সম্মুখযুদ্ধ, পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্য, এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম, জয় বাংলা ও সিকান্দার আবু জাফরের কবিতার লাইন, ‘তুমি আমার বাতাস থেকে মোছো তোমার ধুলো’।

ভারতীয় বাহিনীর কারা শহীদ হয়েছিলেন:

আশুগঞ্জ যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৭৯ কর্মকর্তা, ৭০ জন জেসিও, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্য র‍্যাংকের ১৪৮২ সদস্য, ইস্টার্ন থিয়েটার থার্টি বিএসএফের ২৯ সদস্য, ইস্টার্ন থার্টি এয়ার ফোর্সের ১১ কর্মকর্তা, ইস্টার্ন থার্টি নেভির ৬ সদস্য শহীদ হন। তাদের প্রত্যেকের নামের তালিকা লোহার ভারী শিটে খোদাই করে মৈত্রীস্তম্ভের বেষ্টনীতে লেখা রয়েছে।

স্মৃতিস্তম্ভে পার্ক সম্পর্কে যা বললেন যুদ্ধকালীন কমান্ডার:

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যুদ্ধকালীন কমান্ডার নুরুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালে ৯ ডিসেম্বর ভোরে পাঞ্জাবিদের এম্বোশে আমরা পড়ে গেলাম। এর মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলো। এটার মূল যুদ্ধ হয়েছে সোহাগপুর, বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর মিলিয়ে যুদ্ধ হয়েছে। সেখানে বহু হতাহত হয়েছে। ভারতীয় অনেক সৈন্য মারা গেছে এই যুদ্ধে। পাক বাহিনীর কিছু লোক মারা গেছে। তখন আমরা সেখান থেকে বগইর পর্যন্ত এলাম। তখন ভৈরব থেকে আর্টিলারি মারলো বগইরে। তখন সেখান থেকে আমরা চলে আসলাম বেড়তলা। বেড়তলা থেকে পরের দিন আমরা এগিয়ে গেলাম আশুগঞ্জের দিকে। ওই যুদ্ধে ভারতের তিনটি ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে সোহাগপুর গ্রামে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই যে মৈত্রীস্তম্ভটি করেছে, আমাদের বর্তমান প্রজন্ম জানে না- মুক্তিযুদ্ধে ঠিক কি হয়েছে। এই স্মৃতিস্তম্ভের মাধ্যমে এরা সবাই জানতে পারবে। সেজন্য আমরা বাংলাদেশ সরকার ও ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক যা জানালেন:

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক হাজী সৈয়দ এমরানুর রেজা গণমাধ্যমে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জে যে মৈত্রীস্তম্ভটি করা হয়েছে এটাতে ইতিহাসটা আছে। বাংলাদেশের সৃষ্টির ইতিহাস, তাদের সারেন্ডারের ইতিহাস বাংলাদেশের প্রথম ভাগ থেকে শেষ ভাগ পর্যন্ত সমস্ত ইতিহাস আছে মৈত্রীস্তম্ভে। নিয়াজি যে আত্মসমর্পণ করলো এই দৃশ্যগুলো চিত্রের মধ্যদিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এগুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে নতুন প্রজন্ম অনেক কিছুই জানতে পারবে।’
ভারতকে আমরা বন্ধু রাষ্ট্রের ভূমিকায় দেখতে চাই।

এদিকে আশুগঞ্জ উপজেলার সদ্য বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া গণমাধ্যমে বলেন, মৈত্রীস্তম্ভটি গত নভেম্বর মাসে ঠিকাদার থেকে গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে আমরা বুঝে পেয়েছি। বর্তমানে এটি উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। স্তম্ভটি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার জন্য যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ চলছে। প্রায় সাড়ে তিন একর জমির ওপর মৈত্রীস্তম্ভটি নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে মেসার্স নির্মাণ বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণকাজে ব্যয় হয়েছে ৭২ কোটি টাকা।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায়

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’—সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনকে হটিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। বাংলাদেশের পর পরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।

ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে।

উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া।২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

‘বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-বলার পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো হকার বসতে পারবে না গৃহকর্মীর মৃত্যু: স্ত্রীসহ ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক আশফাকের বিচার শুরু