আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট: যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের ৪৩% তেল উৎপাদন ঝুঁকিতে
৬ মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সংঘাতপূর্ণ দেশগুলো থেকে আসছে বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের ৪৩ শতাংশেরও বেশি। ফলে বর্তমান সংকট আগের বড় জ্বালানি সংকটগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ছয় মাস আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হয় তেল সরবরাহের বড় সংকট। এখনো এর অবসানের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। একই সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া ও কাজাখস্তানসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে তেল উৎপাদন ও পরিশোধন কমেছে।
এর সঙ্গে লিবিয়ার চলমান সংঘাত এবং বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও সংকটে ফেলেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) তথ্য ব্যবহার করে রয়টার্সের হিসাব বলছে, সংঘাতপ্রবণ দেশগুলো ২০২৫ সালে দৈনিক প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে। যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ৪৩ শতাংশের বেশি।
বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল সরবরাহে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ থেকে ৭০ লাখ ব্যারেল ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সৌদি আরব তেল পরিবহনের পথ লোহিত সাগরের দিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে গোপনে তেল রপ্তানি করছে।
তবে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। জুলাইয়ে লোহিত সাগর ও মিসরের সুয়েজ খালের আশপাশে হামলার ঘটনাও সেই ঝুঁকি স্পষ্ট করেছে।
ইরান-উপসাগরীয় সংঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের মোট তেল পরিশোধন ক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ এখন অচল হয়ে পড়েছে।
ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে আসছে। এমনকি রাশিয়ার ওমস্ক শহরের একটি শোধনাগারেও হামলা হয়েছে, যা ইউক্রেন-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে প্রায় ২,৭০০ কিলোমিটার দূরে।
সরবরাহ সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মজুত দ্রুত কমছে। তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে। একই সঙ্গে উচ্চ জ্বালানি মূল্য মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারি ঋণের চাপও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সংকটের কারণে বিশ্ব তেলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তবে ভয়াবহ আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের তেল সরবরাহও মাঝে মাঝে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বিশ্বের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা এখন নজিরবিহীন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



আপনার মতামত লিখুন