ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইও’র বিরুদ্ধে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ও টেলিকম কর্মকর্তা বঙ্কিম ব্রহ্মভট্টের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া মামলায় তাকেই এই জালিয়াতির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তার কেলেঙ্কারির কারণে ব্ল্যাকরকের ঋণ শাখাসহ একাধিক বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ৫০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক প্রভাবশালী দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক বিশেষ প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে বর্ণনা করেছে ‘বিস্ময়কর আর্থিক জালিয়াতি’ হিসেবে।
ব্রহ্মভট্ট যুক্ত রয়েছেন বৈশ্বিক টেলিকম পরিষেবা খাতের তুলনামূলক অপরিচিত দুই প্রতিষ্ঠান ব্রডব্যান্ড টেলিকম ও ব্রিজভয়েসের সঙ্গে। দুটি সংস্থাই ব্যাঙ্কাই গ্রুপ নামে একটি হোল্ডিং কোম্পানির অধীনে পরিচালিত।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ব্যাঙ্কাই গ্রুপ ব্রহ্মভট্টকে তাদের প্রেসিডেন্ট ও সিইও হিসেবে ঘোষণা করে। নিজেদের পরিচিতিতে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, তারা ‘বিশ্বব্যাপী টেলিকম প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক সংযোগের শীর্ষস্থানীয় অংশীদার’।
প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ব্রহ্মভট্টের কোম্পানিগুলো বিশ্বের বিভিন্ন টেলিকম অপারেটরকে অবকাঠামো ও সংযোগের সরঞ্জাম সরবরাহ করে। তবে সম্প্রতি দেখা গেছে, ব্রহ্মভট্টের লিঙ্কডইন প্রোফাইল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, কয়েক মাস আগেও তিনি নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে অফিস পরিচালনা করতেন।
২০২৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, ব্রহ্মভট্টের প্রতিষ্ঠানগুলোর ৫০ কোটি ডলারের বেশি ঋণ বকেয়া রয়েছে। ব্ল্যাকরকের সহযোগী সংস্থা এইচপিএস ইনভেস্টমেন্ট পার্টনার্সসহ অন্যান্য ঋণদাতারা অভিযোগ করেছেন, তিনি ভুয়া চালান ও কাল্পনিক পাওনা অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ঋণের জন্য জামানত গড়েছিলেন।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ভারত ও মরিশাসে তহবিল স্থানান্তরের সময় তিনি কাগজে-কলমে এক ‘আর্থিক শক্তির মায়াজাল’ তৈরি করেন—যাতে তার ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী দেখানো যায়।
ঋণদাতাদের অভিযোগ, ব্রহ্মভট্ট কারিওক্স ক্যাপিটাল ও বিবি ক্যাপিটাল এসপিভি নামের একাধিক আর্থিক সংস্থার মাধ্যমে জটিল নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। এই কাঠামো ব্যবহার করে তিনি ব্ল্যাকরকসহ বিভিন্ন বেসরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অর্থ ঋণ নিয়েছিলেন।
তদন্তে জানা গেছে, তিনি ভুয়া গ্রাহক চালান তৈরি করে সেগুলোকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করেছেন। পরে সেই অর্থ ভারত ও মরিশাসে স্থানান্তর করা হয়। এখন তার দুটি কোম্পানি এবং ব্রহ্মভট্ট নিজে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেছেন।
গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও ব্রহ্মভট্টের আইনজীবী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।



আপনার মতামত লিখুন