ইসরায়েলে রেকর্ডসংখ্যক আসনে জয়ের পথে আরব দলগুলো

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৫:৫৯ পিএম
ইসরায়েলে রেকর্ডসংখ্যক আসনে জয়ের পথে আরব দলগুলো

ইসরায়েলের নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন দেশটির আরব নাগরিকরা। এতে সেখানকার আরব দলগুলো সর্বোচ্চ ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে বুথফেরত জরিপে ইঙ্গিত মিলেছে। খবর আল জাজিরার।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পাওয়া বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, আরব নেতাদের মূল দুটি দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’ম যৌথভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে।

টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট গণনার পর জয়েন্ট লিস্ট ১১ এবং রা’ম ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের মধ্যে এবার ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের ঐতিহাসিক রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেছে।

ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা’ম-এর নেতা মনসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করেছেন, নেতানিয়াহুবিরোধী জোটকে সরকার গঠনের জন্য তাদের আসনগুলো বিরোধীদের প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পূরণে সহায়তা করবে।

প্রাথমিক ভোট গণনা শুরু হওয়ার আগে চ্যানেল ১২-কে আব্বাস বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে সংখ্যা রয়েছে, তাতে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠন করতে পারছে না।’

আব্বাস জানান, প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জোটই নির্বাচনের আগে ও পরে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে। উল্লেখ্য, নেসেটে আব্বাসের দল রা’মের বর্তমানে পাঁচটি আসন রয়েছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিংকাস বলেন, আইজেনকটের জোটের জন্য সরকার গঠন করা কঠিন হতে পারে। কারণ তারা প্রচারণার সময় আরব দলগুলোর সাথে জোট না করার অঙ্গীকার করেছিল।

পিংকাস মন্তব্য করেন, ‘রাজনীতিতে এ ধরনের অবস্থানের একটি মূল্য চুকাতে হয়। আরবদের বাদ দিয়ে কেবল দরকারের সময় তাদের ভোট পাওয়ার কথা ভাবা আর চলবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, আরব-নেতৃত্বাধীন জোটগুলো যেসব দাবি তুলবে, তা হয়তো ইহুদি-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পক্ষে মেনে নেয়া কঠিন হবে।

এদিকে, নির্বাচনের দিনে নেতানিয়াহু ও তার চরম ডানপন্থী জোটের নেতারা ইহুদিদের ভোটকেন্দ্রে টানতে শেষ মুহূর্তের মরিয়া চেষ্টা চালান। এ সময় তারা আরব ভোটাধিকার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা চালান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির পতাকাবাহী গাড়িতে মাইকে আজান বাজিয়ে সমর্থকদের তড়িঘড়ি ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হয়, আর বলা হতে থাকে—‘আরবরা ভোট দিচ্ছে’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটারের দীর্ঘ সারি এবং নিকাব পরা নারীদের ছবি প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। ছবিটির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, তবে মনসুর আব্বাস ও আহমেদ তিবিদের নিয়ে গঠিত সরকারের হাতে আমাদের পড়তে হবে।’

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ৭৭.৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। ইসরায়েলের প্রায় ১ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ফিলিস্তিনি নাগরিকরা ২১ শতাংশ হলেও ঐতিহ্যগতভাবেই তারা ইহুদিদের তুলনায় কম ভোট দিয়ে থাকেন।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...