সেমিফাইনালেই শক্তি ফুরিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনার: মেসি
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের পেছনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের শারীরিক ও মানসিক ধকলকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন লিওনেল মেসি। তার মতে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর ফাইনালে পৌঁছানোর সময় আর্জেন্টিনা যেন ‘শেষ শক্তিটুকু নিয়েই’ মাঠে নেমেছিল।
মঙ্গলবার বেনিনের বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলার পর সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের কথা স্মরণ করে মেসি বলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেকটাই নিঃশেষ করে দিয়েছিল। তাই ফাইনালে নিজেদের স্বাভাবিক পারফরম্যান্স দিতে পারেনি দল।
বিজ্ঞাপন
স্পেনের বিপক্ষে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে ৯০ মিনিটে একটি শটও লক্ষ্যে নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হারায় তারা। মেসি বলেন, ‘আমাদের একটি স্বপ্ন ছিল। আমার স্বপ্ন, পুরো দেশের স্বপ্ন ছিল আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া।’
এরপরই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের প্রভাবের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের সত্যিই অনেকটা নিঃশেষ করে দিয়েছিল। শারীরিক ও মানসিকভাবে সেটি ছিল ভীষণ ক্লান্তিকর। সত্যি বলতে, ফাইনালে আমরা প্রায় শেষ শক্তিটুকু নিয়েই পৌঁছেছিলাম।’
বিজ্ঞাপন
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মেসি। দলের দুটি গোলেই সহায়তা করেছিলেন তিনি। ম্যাচটির আলাদা গুরুত্বও ছিল তার কাছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের ফুটবল-প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সেটি দুই দেশের মানুষের আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন মেসি।
তবে ফাইনালের পারফরম্যান্স নিয়ে দেশে তৈরি হওয়া নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা। তার মতে, ফাইনালে দলের ব্যর্থতার পেছনে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। বরং পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই সতীর্থরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।
মেসি বলেন, ‘আসলে কিছুই অদ্ভুত ঘটেনি, যেমনটা কিছু মানুষ বলছে। আমরা আমাদের সবটুকু দিয়েছি। আমরা কঠিন লড়াই করেছি, যেমনটা সবসময় করেছি।’
বিজ্ঞাপন
জাতীয় দলের জার্সির প্রতি সতীর্থদের দায়বদ্ধতার কথাও জোর দিয়ে বলেছেন মেসি। শুধু বিশ্বকাপজয়ী দলটির সদস্যদের নয়, তার আগে যারা আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মেসির ভাষায়, ‘আমরা যে জার্সি পরেছি, তার জন্য সবসময় নিজেদের উজাড় করে দিয়েছি। আমার সঙ্গে যারা এই যাত্রায় ছিল, শুধু যারা শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা নয়, তার আগের সতীর্থরাও ছিল এর অংশ। আমরা তখনও খুব কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু দুঃখজনকভাবে চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি।’
বিজ্ঞাপন
এরপর আরও দৃঢ়ভাবে নিজের সাবেক ও বর্তমান সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়ে মেসি বলেন, ‘তবে একটা বিষয় পরিষ্কার- আমার পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক সতীর্থই সবসময় এই জার্সির জন্য নিজেদের সবকিছু দিয়েছে। সবসময়।’
ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া মেসি ২০২২ সালে কাতারে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান। এরপর ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। তার এই সিদ্ধান্তের কয়েক সপ্তাহ আগেই মারা যান তার বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসি।
জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচেও নিজের জন্য স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে পেনাল্টি থেকে দলের তৃতীয় গোলটি করেন মেসি। এর সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১২৬-এ। ম্যাচে দুটি গোলে সহায়তাও করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শেষ বাঁশির পর মেসি আবারও জানিয়ে দেন, জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা তার কাছে কতটা আবেগের। তিনি বলেন, ‘যেমনটা আমি বলেছি, আমি চিরকাল এখানে থেকে যেতে চাইতাম। শেষ বিশ্বকাপটি আমার ওপর বিশাল প্রভাব ফেলেছে, আমি যা কিছু পার করেছি, সব মিলিয়েই।’
বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই হতাশার পরও মেসি সতীর্থদের কোনোভাবেই দায়ী করতে চাননি। বরং তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে, কঠিন এক যাত্রার শেষ প্রান্তে পৌঁছে আর্জেন্টিনা যতটা পেরেছে ততটাই দিয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের শারীরিক ও মানসিক ক্ষয় শেষ পর্যন্ত স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে তাদের শক্তি কেড়ে নিয়েছিল- বিদায়ী ম্যাচের পর মেসির কথায় উঠে এল সেই কঠিন বাস্তবতা।
আইএইচএস/


