ইরানে হামলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসরায়েল

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৪:৪৪ পিএম
ইরানে হামলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসরায়েল

পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষে নতুন সরকার গঠনের আগেই ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। এ পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির হাইকমান্ড। তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা কত দিন স্থায়ী হতে পারে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের মতপার্থক্য রয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) হিব্রু সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আম্মানভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম রোয়া নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর হামলার জন্য প্রয়োজনীয় মোতায়েন ও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ, উভয় ক্ষেত্রেই সতর্কতার মাত্রা এখন ‘অত্যন্ত উচ্চ’। এরই মধ্যে মার্কিন সামরিক বিমান ইসরায়েলে অবতরণ করেছে।

তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য নীতিনির্ধারকেরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের (গ্রিন সিগন্যাল) অপেক্ষায় রয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযান শুরু হলে তা দীর্ঘায়িত হতে পারে। তবে এটি স্বল্পমেয়াদি অভিযানের প্রতি ট্রাম্পের কথিত পছন্দের বিপরীত।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। এতে অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো রয়েছে। তবে এসব প্রস্তুতি বাস্তবায়ন রাজনৈতিক নির্দেশের ওপর নির্ভর করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত শুরু হলে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় একটি রণাঙ্গনও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

আইডিএফ সূত্রের দাবি, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা উত্তর দিক থেকে ড্রোন ও রকেট হামলার পাশাপাশি চালকবিহীন আকাশযানের সমন্বিত আক্রমণের আশঙ্কা করছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক না ছড়ানোর বিষয়েও সতর্ক করেছেন তারা।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। এ অঞ্চলে একাধিক ডেস্ট্রয়ার ও বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের পাশাপাশি বিমান চলাচলও বাড়ানো হয়েছে।

তবে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলেছে, এসব সামরিক তৎপরতার অর্থ এই নয় যে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বরং এগুলো ট্রাম্পের সামনে সম্ভাব্য সামরিক বিকল্প তুলে ধরার অংশ। একই সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা কিংবা তেহরানের কোনো আগাম সামরিক পদক্ষেপ মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে ইসরায়েল।

চলতি মাসের শুরুতে ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ মহড়া, দেশটির নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য যৌথ সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...